অবশেষে ক্যারিবিয়ানদের সাউদাম্পন জয়

অনলাইন ডেস্ক ঃঃ

সাউদাম্পটন টেস্টকে সামনে রেখে ক্যারিবিয়ান লিজেন্ডারি ব্রায়ান লারা দিয়েছিলেন হোল্ডারদের বিশেষ বার্তা। ৫ম দিন পর্যন্ত ম্যাচ টেনে নিলে জিততে পারবে না ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিততে হবে চতুর্থ দিনের মধ্যে। তার এই বার্তায় টনিকের পাশে জিদটাও ভালই কাজ করেছে হোল্ডারদের। শুরু থেকে ৫ম দিন পর্যন্ত ম্যাচে কর্তৃত্ব করে ৪ উইকেটে জিতে করোনাকলে স্থবির ক্রিকেট বিশ্বকে দিয়েছে ক্যালিপসো সুরের মুর্ছনা। করোনা ভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারীতে ১১৭ দিন স্তব্ধ থাকার পর ক্রিকেট ফিরেছে। সে কারনেই দর্শকহীন সাউদাম্পটন টেস্টকে ঘিরে কৌতুহল ছিল যথেষ্ট। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের দুঃসময়ে ৩ মিলিয়ন ডলার ধার দিয়ে,তাদেরকে রাজি করিয়ে চার্টার ফ্লাইটে করে ইংল্যান্ডে এনেছে ইসিবি।ইংল্যান্ডে পা রাখা মাত্রই ১৪দিনের কোয়ারেন্টিনে ঢুকিয়ে দিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলকে। গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটি থেকে ২-১ এ সিরিজ হারের বদলা নিজেদের মাটিতে নিতে চারদিকে একটা বদলার আবহ তৈরি করতে চেয়ে ইসিবি।তবে তাদের সে আশায় গুড়ে-বালি।অনাগত দ্বিতীয় সন্তানের মুখদর্শনে ছুটি নিয়েই দলকে বিপদে ফেলেছেন অধিনায়ক জো রুট। তার শুন্যস্থান পূরন করতে পারেননি বিশ্বকাপ হিরো বেন স্টোকস। উল্টো হোমে টানা ৫১ টেস্ট পর দলের সবচেয়ে ধারাবাহিক পেস বোলার স্টুয়ার্ট ব্রডকে রেখেছেন তিনি একাদশের বাইরে। ঝির ঝির বৃষ্টি আর মেঘলা আকাশ দেখে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়াটাও হয়েছে বুমেরাং ! তার পরিনতি বরন করতে হয়েছে স্টোকস এন্ড কোং-কে। হোল্ডার (৬/৪২),গ্যাব্রিয়েলের (৪/৬২) ভয়ংকর তোপে ২০৪ রানে প্রথম ইনিংসে অল আউট হয়েই বিপদ ডেকে এনেছে ইংল্যান্ড। প্রথম ইনিংসে ১১৪ রানের লিড নিয়ে ইংল্যান্ডকে চোখ রাঙিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তৃতীয় দিনে। ম্যাচে টিকে থাকতে হলে, কিংবা জয়ের আশা বাঁচিয়ে রাখতে তৃতীয় ইনিংসটা বড় করা দরকার ছিল। কিন্তু চতুর্থ ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে কাঁটায় কাঁটায় ২০০ চ্যালেঞ্জ দিতে পেরেছে ইংল্যান্ড। আগের দিনের ২৮৪/৮ এর সঙ্গে ৫ম দিনে ৭.২ ওভারে ইংল্যান্ড শেষ ২ উইকেটে যোগ করতে পেরেছে ২৯ রান। তা সম্ভব হয়েছে আরচ্যারের ২৩ রানের কল্যানে। চতুর্থ দিনের শেষ ঘন্টায় ৩ ওভারের স্পেলে ২ উইকেটে (৩-১-৩-২) ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ম্যাচে ফিরিয়েছেন গ্যাব্রিয়েল। ৫ম দিনের সকালের স্পেলটা্ও (৩.২-১-১৩-২) তার ! ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ইতোপূর্বের ৮ টেস্টে ছিল না গ্যাব্রিয়েলের কোন ৫ উইকেটের ইনিংস। নিজের সেই আক্ষেপটাই ঘুঁচিয়েছেন এই ক্যারিবিয়ান পেসার (৫/৭৫)। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে ৯ উইকেটেও প্রথম দৃষ্টান্ত তার সাউদাম্পটন টেস্ট। টেস্টে চতুর্থ ইনিংস বলে কথা। তাই ২০০ রানের চ্যালেঞ্জ নিতে এসে শুরুটা ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের নড়বড়ে। স্কোর শিটে ২৭ রান উঠতে ৩ ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে,আহত হয়ে ক্যাম্পবেলের ড্রেসিং রুমে ফিরে যাওয়ায় হারের শঙ্কা করেছিল ভর উইন্ডিজ শিবিরে। তবে সে শংকা কেটেছে চতুর্থ উইকেট জুটিতে চেজ-ব্লাকউডের ৭৩,৫ম জুটিতে ব্লাকউড-ডরউইচের ৬৮ রানে। ৫ম দিনের দ্বিতীয় সেশনে ১ ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে ১০৮ রান যোগ করেই জয়ের আবহ দিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। চতুর্থ ইনিংসের চাপটা নিয়ে ব্যাটিংয়ে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ব্লাকউড। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ক্যারিয়ারর প্রথম ইনিংসেই সেঞ্চুরির অতীত আছে এই মিডল অর্ডারের। এন্টিগায় ১১২ রানের হার না মানা সেই ইনিংস থেকে টনিক নিয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় সেঞ্চুরির স্বপ্ন দেখেছেন। তবে স্বপ্ন পূরনের পথে নিজেই করেছেন ভুল। স্টোকসের ওভারপিচ ডেলিভারি মিড অফের উপর দিয়ে খেলতে যেয়ে দিয়ে এসেছেন ক্যাচ। ৫ রানের জন্য হাতছাড়া করেছেন অবধারিত সেঞ্চুরি ( ১৫৪ বলে ১২ বাউন্ডারিতে ৯৫)।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.

শিরোনাম