ইউরোপা লীগে সেভিয়া ফাইনালে

সংবাদ জমিন, অনলাইন ডেস্ক ঃঃ

ইউরোপা লীগ নিয়মিত জিততে থাকা স্পেনিশ দল সেভিয়া আরও একবার প্রতিযোগিতার ফাইনালে উঠেছে। শনিবার রাতে তারা এ মওসুমে ফেবারিট ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ২-১ গোলে হারিয়ে দিয়েছে। বদলি খেলোয়াড় লুক ডি জং ৭৮ মিনিটে করেন জয়সূচক গোলটি। ঘরোয়া ফুটবলে চলতি মওসুমে দুটি সেমিফাইনালে পরাজিত হওয়া ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এর মাধ্যমে সেমিফাইনালে হারের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেছে। অথচ এ ম্যাচে তাদের শুরুটা হয়েছিল চমৎকার। ৯ মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্ডেজ পেনাল্টি থেকে গোল করে এগিয়ে দিয়েছিলেন ইংলিশ জায়ান্টদের। তখন মনে হয়েছিল ওলে গার্নার সোলসারের দলটি সম্ভবত সেমিফাইনালের ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠে এবার ফাইনালে খেলবে। কিন্তু তা হয়নি, ২৬ মিনিটে লিভারপুলের সাবেক খেলোয়াড় সুসো ম্যাচে সমতা ফেরান। এ ম্যাচে ম্যানইউ অপেক্ষাকৃত ভাল খেললেও গোল তারা করতে না পারার খেসারত দেয়। এ ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় ছিলেন সেভিয়ার গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনো। তিনি বেশ কয়েকবার দলকে নিশ্চিত গোল খাওয়া থেকে রক্ষা করেন। আর বদলি খেলোয়াড় ডি জং গোল করে জয় ছিনিয়ে নেয়। সেভিয়া ফাইনালে শাখতার ডনেতস্ক এবং ইন্টার মিলানের মধ্যেকার সেমিফাইনালে বিজয়ী দলের সাথে খেলবে। সেভিয়া ২০০৬ সালের পর ৫বার জিতেছে ইউরোপা লীগ। সেভিয়ার কোচ জুলেন লোপেতেগুই বলেন, ‘আমার কাছে মনে হচ্ছে খেলোয়াড়রা আমার গায়ে আনন্দ মেখে দিয়েছে। আমি জানতাম ফাইনালে যেতে হলে আমাদের কি করতে হবে। ম্যানইউর মতো দলের বিপক্ষে জেতা মোটেও সহজ কাজ ছিলনা।’ সেভিয়া সব ধরনের ফুটবলে শেষ ২০ ম্যাচে অপরাজিত।

স্পেনিশ ফুটবলের সম্মান রক্ষা করা এখন সেভিয়ার দায়িত্ব হয়ে পড়েছে। চ্যাম্পিয়ন্স লীগে স্পেনের কোন দল টিকে নেই। ম্যানইউ বিদায় নেয়ায় ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় ইংল্যান্ডেরও কোন দল আর রইলোনা। চ্যাম্পিয়ন্স লীগে টিকে ছিল ম্যানচেস্টার সিটি। কিন্তু শুক্রবার তারা লিওর কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেয়। ম্যানইউ কোচ প্রশংসা করেন প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের। তিনি বলেন, ‘গোলরক্ষক দুরন্ত খেলেছে। আমাদের গোল করতে না পারাটা ছিল হতাশার। আমরা জানতাম গোল করার মতো খেলোয়াড় আমাদের দলে আছে। কিন্তু তারা গোল করতে পারেনি। এটাই ফুটবল। খেলোয়াড়রা শেষ পর্যন্ত কিভাবে চেষ্টা করে গেছে তা সবাই দেখেছে।’

অথচ ম্যানইউর শুরুটা হয়েছিল স্বপ্নের মতো। আট মিনিটের মাথায় মার্কাস র‌্যাসফোর্ডকে পেনাল্টি বক্সে ফাউল করে পেনাল্টি উপহার দিয়েছিলেন দিয়েগো কার্লোস। সেটা থেকে গোল করেন ব্রুনো ফার্নান্ডেজ। চলতি মওসুমে ম্যানইউ এ নিয়ে ২২টি পেনাল্টি পেল। ব্যবধান দ্বিগুন করার সুযোগ পেয়েছিলেন ফ্রেড। কিন্তু তিনি সেটা কাজে লাগাতে পারেননি। সার্জিও রেগুলিয়নের নিচু ক্রস থেকে সুসো সমতায় ফেরান সেভিয়াকে। এর পর অনেকগুলো সুযোগ তৈরী করে ম্যানইউ। কিন্তু সেগুলো থেকে কোন গোল করতে পারেনি ইংলিশ দলটি। উল্টো বদলি খেলোয়াড় ডি জং গোল করে দারুন এক জয় পাইয়ে দেন সেভিয়াকে। পুরো ম্যাচে ম্যানইউ গোল লক্ষ্য করে শট নিয়েছে ২০টি। অপর দিকে সেভিয়া নিয়েছে মাত্র ৯টি। তিন বছর আগে হোসে মরিনহোর হাত ধরে ইউরোপা লীগ জিতেছিল ম্যানইউ। এর পর এটাই হতে পারতো তাদের প্রথম ট্রফি। কিন্তু ম্যানইউ তা জিততে পারেনি। ফলে আরেকটি হতাশাজনক মওসুম শেষ করলো ইংলিশ জায়ান্টরা।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.