মেসির গোলে বার্সেলোনা চ্যাম্পিয়ন্স লীগের কোয়ার্টার ফাইনালে

সংবাদ জমিন, অনলাইন ডেস্ক ঃঃ

প্রথমার্ধের চমৎকার পারফরমেন্সের সাহায্যে বার্সেলোনা শনিবার, ৮ আগস্ট রাতে নিজেদের ন্যু ক্যাম্পে ইটালিয়ান দল ন্যাপোলিকে ৩-১ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন্স লীগের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। বার্সেলোনার তারকা খেলোয়াড় লিওনেল মেসি সামনে থেকে দলের জয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ক্লেমেন্ত লেংলেট বার্সেলোনার হয়ে গোলের সুচনা করেন। এর পর লিওনেল মেসি করেন চোখ জুড়ানো এক গোল। প্রথমার্ধের শেষ দিকে লুইস সুয়ারেজ পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ৩-০ ব্যবধানে। প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে সফরকারীরা পেনাল্টি থেকে একটি গোল পরিশোধ করে দ্বিতীয়ার্ধের খেলা আকর্ষণীয় করে তোলার আভাস দেন। যদিও দ্বিতীয়ার্ধে কোন দলই আর কোন গোল করতে পারেনি। দুই দলের প্রথম লেগের খেলাটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। এর ফলে দুই লেগ মিলিয়ে বার্সেলোনা জয়ী হলো ৪-২ ব্যবধানে। লিওনেল মেসি প্রথমার্ধে দুরন্ত খেলেছেন। এ অর্ধের শেষ দিকে কালিদু কুলিবালি তাকে ফাউল করলে আঘাত পান মেসি। দ্বিতীয়ার্ধে তাকে আর আগের মতো সক্রিয় দেখা যায়নি। হতে পারে দল সুবিধাজনক অবস্থানে থাকায় তিনি কোন ঝুকি নেননি। দ্বিতীয়ার্ধে কোন গোল করতে না পারলেও সফরকারীরা বার্সেলোনার জয়ের ক্ষেত্রে কোন সংশয় সৃষ্টি করতে পারেনি। এ ম্যাচের আগে কোচ কিকে সেটিয়েন ছিলেন বেশ চাপের মধ্যে। দল ভাল খেলে ২০১৫ সালের পর আবার চ্যাম্পিয়ন্স লীগের সেমিফাইনালে ওঠার আশা বাচিয়ে রাখায় তিনি আপাতত নিরাপদ আছেন। কোয়ার্টার ফাইনালে তারা খেলবে জার্মানির বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে। বায়ার্ন একই দিন ফিরতি লেগে চেলসিকে ৪-১ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করে। প্রথম লেগে তারা জিতেছিল ৩-০ ব্যবধানে। দুই লেগ মিলিয়ে বায়ার্ন জিতেছে ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে।

নিয়মিত কয়েকজন খেলোয়াড় ইনজুরি এবং সাসপেন্ড থাকায় কোচ সেটিয়েনকে দল গঠন করতে হয়েছে কিছুটা কৌশলী হয়ে। রাইট ব্যাক পজিশনে খেলানো হয় নেলসন সেমেডোকে। সার্জি রবার্তো নামানো হয় মিডফিল্ডে ফ্রাঙ্কি ডি জং এবং ইভান র‌্যাকিটিচের সাথে। আক্রমণভাগে প্রত্যাশিত তিন খেলোয়াড় মেসি, লুইস সুয়ারেজ এবং অ্যান্টনি গ্রিজম্যান ছিলেন। ম্যাচের শুরুতে অবশ্য ন্যাপোলি বার্সেলোনার পোস্ট নাড়িয়ে দিয়েছিল। খেলার বয়স দুই মিনিট হওয়ার আগেই ইনসিগনের শট ক্রসবারে লেগে প্রতিহত হয়। তিনি শটটি ঠিকমতো মারতে পারেননি। বল তার পায়ের উপরের দিকে লাগায় একটু উপরে উঠে যায়। ন্যাপোলি শুরুর দিকে চাপ সৃষ্টি করতে সমর্থ হলেও ধীরে ধীরে বার্সেলোনা নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত করে। ইভান র‌্যাকিটিচের বাকানো কর্নার কিকে মাথা লাগিয়ে বার্সেলোনাকে ১০ মিনিটের মাথায় এগিয়ে দেন লেংলেট। ন্যাপোলির খেলোয়াড়দের দাবী ছিল লেংলেট হেড করার সময়ে দিয়েগো ডেমেকে ফাউল করেছেন। কিন্তু রেফারি ভিএআর দেখেও গোলটি বহাল রাখেন।

এ গোলই বার্সেলোনার খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে উজ্জীবিত করে তোলে। মেসি প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে দারুন এক গোল করে ব্যবধান বাড়িয়ে তোলেন। সুয়ারেজের কাছ থেকে বল পেয়ে মেসি তিনজন খেলোয়াড়কে কাটিয়ে দুইজন ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে বল জালে পাঠান। এর পর মেসি আরেকবার বল জালে পাঠালেও সেটি বাতিল হয় মেসি হাত দিয়ে ডি জংয়ের ক্রস থেকে বল নিয়ন্ত্রনে নেয়ায়। প্রথমার্ধের শেষ দিকে পেনাল্টি বক্সের মধ্যে কুলিবালির ফাউলের শিকার হন মেসি। উভয় খেলোয়াড়ই মাঠে পড়ে যান এবং ব্যথায় কাতরাতে থাকেন। কিন্তু রেফারির সিদ্ধান্ত ছিল মেসি ফাউলের শিকার হয়েছেন এবং বার্সেলোনার পক্ষে তিনি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন। সিদ্ধান্তটি আসে অবশ্য ভিএআর দেখে। পেনাল্টি থেকে গোল করেন লুইস সুয়ারেজ। বার্সেলোনা ৩-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর পরই প্রতিপক্ষকে পেনাল্টি উপহার দেন র‌্যাকিটিচ। তিনি ড্রিস মার্টিন্সকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় ন্যাপোলি। পেনাল্টি থেকে ইনসিগনে গোল করে ব্যবধান কমিয়ে করেন ৩-১। প্রথমার্ধের শেষ দিকে মেসির অবস্থা খারাপ মনে হয়েছিল। তিনি ঠিকমতো দৌড়াতে পারছিলেননা। তবে বিরতির পর তাকে স্বাভাবিকভাবেই খেলতে দেখা যায়। ন্যাপোলি দ্বিতীয়ার্ধে অপেক্ষাকৃত ভাল খেললেও বার্সেলোনার গোলরক্ষক মার্ক আন্দ্রে টার স্টেগেনকে পরাস্ত করতে পারেনি। বার্সেলোনার কৌশল ছিল বল নিজেদের দখলে রেখে খেলার গতি কমিয়ে রাখা। সেটিতে তারা সফল হয়েছে। শেষ দিকে ন্যাপোলি প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি করেও আর কোন গোলের দেখা পায়নি। ওয়েবসাইট।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.