শেখ হাসিনার সরকারকে একনায়কতন্ত্র বলা চলে : ফখরুল

সংবাদ জমিন, অনলাইন ডেস্ক ঃঃ

সরকার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দখল করে দেশে একনায়কতন্ত্র চালু করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিনি এই অভিযোগ করেন। বিএনপির সাবেক মহাসচিব ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদারের ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিকালে ‘ব্যারিস্টার আবদস সালাম তালুকদার স্মৃতি সংসদ’ এর উদ্যোগে এই ভার্চুয়াল আলোচনা সভা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে তারা (সরকার) দখল করে নিয়েছে এবং সেটা দথল করেছে শুধু বন্দুক-পিস্তলের জোরে টানা ক্ষমতায় থাকার জন্য, একদলীয় শাসন ব্যবস্থাকে পাকাপোক্ত করার জন্য। আজকে বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থেই গণতন্ত্রবিহীন, একটা ফ্যাসিবাদী একনায়কতন্ত্রে পরিণত হয়েছে। এই অবস্থা থেকে আমাদের বেরুতে হবে। এদেরকে সরাতে হবে, জনগণকে মুক্তি দিতে হবে এবং সেই মুক্তি দিতে হলে জনগণকে জাগিয়ে তুলতে হবে। জনগণকে জাগিয়ে তুলতে হলে বিএনপিকে আজকে দেশের সমস্ত মানুষকে, সকল রাজনৈতিক শক্তিকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এদেরকে পরাজিত করতে হবে। তিনি বলেন, আসুন, আজকে এই স্মরণসভায় ব্যারিস্টার সালাম তালুকদারকে অনুসরণ করে আমরা সবাই সচেষ্ট হবো, সক্রিয় হবো। তার শোককে শক্তিতে রুপান্তরিত করে আমরা অবশ্যই জয়ী হবো। ‘উই শ্যাল ওভার কাম’-এই প্রত্যাশা আমি করছি।

নির্বাচন কমিশনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কোনদিন আমরা কল্পনাই করতে পারি যে, এই নির্বাচন কমিশন দেশে একটা এই ধরনের ভয়াবহ নির্বাচন করবে। তিন তিনটা নির্বাচনই তারা একই ধরনের নির্বাচন করেছে। এটা একটা হাইব্রিড সরকার। তারা নির্বাচনকে ব্যবহার করবে তাদের ক্ষমতায় থাকার জন্য এবং করছেও তাই। তারা সকল প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুলিশ, সেনাবাহিনী, এডমিনিস্ট্রেশন, আদালত সব প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রণ করে বলেছে যে, আমরা তো নির্বাচিত সরকার।

সরকারের দমনপীড়নের চিত্র তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে বিএনপির ৩৫ লক্ষ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা, এক লক্ষের ওপরে মামলা। হাজারো নেতাকর্মী গুম হয়েছে, খুন হয়েছে। ইলিয়াস আলীর মতো নেতা, চৌধুরী আলমের মতো নেতা, লাকসামের পারভেজের মতো নেতাসহ বহু নেতাকর্মী গুম হয়ে গেছেন। তাদের কোনো খোঁজ নেই। আমরা এই পরিস্থিতির সঙ্গে পরিচিতি ছিলাম না। আমরা গুম শব্দটা জানতামই না  কাকে বলে। আজকে আমরা আমাদের নেতাদেরকে গুম হয়ে যেতে দেখেছি। আমরা দেখেছি খুন করছে, বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ড চলছে এবং মানুষের সমস্ত অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। এই অবস্থা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। আজকে সত্যিকার অর্থে প্রত্যেকটি মানুষ এখান থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম এথান থেকে বেরিয়ে আসতে চায়।

দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আপনারা জানেন যে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে। এটা তো একটা অকল্পনীয় ব্যাপার। যে নেত্রী স্বাধীনতার পতাকা, গণতন্ত্রের পতাকাকে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে গেছেন, জনগন তার পেছনে ছুটেছে। সেই নেত্রীকে তারা আটক করে রেখেছে। এটার একটি মাত্র কারণ। তিনি যদি বাইরে থাকেন তাহলে এই জনগণকে আটকিয়ে রাখা যাবে না। সেজন্য তারা তাকে আজকে আটকিয়ে রেখেছে।

স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের পরিচালনায় আলোচনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল কবির রিজভী, ফজলুল হক মিলন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সিরাজুল হক, নিলোফার চৌধুরী মনি, রশিদুজ্জামান মিল্লাত, যুব দলের সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, প্রয়াত নেতার সহধর্মিনী মাহমুদা সালাম, তার মেয়ে সালিমা বেগম, স্বামী মাহমুদুল হাসান, ভাতিজী সাদিয়া হক, স্মৃতি সংসদের সুজাত আলী, শামসুজ্জামান মেহেদি প্রমূখ বক্তব্য রাখেন

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.