সরকার বিএনপিকে নিয়ে নতুন ষড়যন্ত্র করছে : ফখরুল

সংবাদ জমিন, অনলাইন ডেস্ক ঃঃ

সরকার বিএনপিকে নিয়ে নতুন করে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ মঙ্গলবার গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি। মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি ও জিয়া পরিবারের প্রতি জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থনকে নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় মোকাবিলা না করে বর্তমান সরকার নতুন করে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত শুরু করেছে। সে কারণেই বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানসহ চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও জাতীয়তাবাদী রাজনীতিকে রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে তারা। দেশের বিরাজমান নৈরাজ্য রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুট ও মানবাধিকার বিরোধী গুম-খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের দায় থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করার জন্যই তারা এই ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।

তিনি বলেন, দলের পক্ষ থেকে আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় ঐক্যের জন্য বারবার উদ্যোগ নিয়েছেন। মরহুম প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমানের কবর জিয়ারত করাসহ নানা তৎপরতার মাধ্যমে তিনি তার উদ্যোগের বার্তা দেশবাসীকে দিয়েছেন বারবার। কিন্তু চলমান অপতৎপরতায় প্রমাণিত হয় ক্ষমতাসীন মহল জাতিকে বিভক্ত করে সংকীর্ণ স্বার্থ অন্বেষণেই ব্যস্ত। আমরা পুনরায় ক্ষমতাসীন দলকে ইতিহাস বিকৃত করার এই ঘৃণ্য তৎপরতা পরিহার করে দেশ ও জাতির স্বার্থে জাতীয় ঐক্যের পথে আসার আহ্বান জানাই। অন্যথায় এর দায়-দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১৯৭১ সালে জাতি যখন নেতৃত্বহীন, কান্ডারী শূন্য হয়ে দিশেহারা, ঠিক তখনই ২৬শে মার্চ জীবনের তোয়াক্কা না করে মেজর জিয়াউর রহমান অকুতোভয় স্বকণ্ঠে স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন এবং সম্মুখ যুদ্ধে নেতৃত্ব দিলেন। যিনি পরবর্তীতে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তন করে রাজনীতিতে আওয়ামী লীগসহ সকল রাজনৈতিক দলের  অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিলেন, বিশৃংখল সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনলেন, স্টেট ম্যান হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশের আসন সুপ্রতিষ্ঠিত করলেন, রাষ্ট্র পরিচালনা ও রাজনীতিতে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে জনগণের মণিকোঠায় স্থান করে নিলেন, লক্ষ লক্ষ মানুষ যার জানাজায় অংশ নিয়ে অনন্য নজির স্থাপন করলেন, সেই প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকেই এখন ১৫ই আগস্ট হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ এত সমালোচনা কেন করেন জানেন? কারণ,  শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়া তাদের একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী। শহীদ জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে ৪০ বছর আগে। তারপরও তার অপ্রতিরোধ্য জনপ্রিয়তাকে ক্ষমতাসীনদের এতই ভয় যে আজও একটা সুষ্ঠু নির্বাচন দেয়ার সাহস রাখে না তারা।

মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদশেরে ইতিহাস সর্ম্পকে যাদের সম্যক ধারণা আছে তারা সকলেই জানেন, ১৫ই আগস্ট হত্যাকান্ড ঘটেছিল আওয়ামী লীগের অন্যতম র্শীষ নেতা খন্দকার মোশতাক আহমেদের  নেতৃত্বে। মরহুম প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমানের লাশের ওপর দিয়েই সেদিন ওই মন্ত্রীসভার প্রায় সকল সদস্যই শপথ নিয়েছিলেন মোশতাক সরকারের মন্ত্রী হিসেবে। ১৯৭৫’র ১৫ই আগস্ট এবং ৩রা অক্টোবরে তৎকালীন আওয়ামী-বাকশাল নেতা খন্দকার মোশতাকের জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া দু’টি ভাষণ এর সুস্পষ্ট দালিলিক প্রমাণ বহন করে। সে ভাষণে তিনি মুজিব হত্যাকাণ্ডকে ‘এক ঐতিহাসিক প্রয়োজন’ বলে উল্লেখ করেন। হত্যাকারীদেরকে তিনি প্রশংসতি করেন ‘অসম সাহসী সূর্য সন্তান’ হিসেবে। ওই সময় জাতীয় সংসদের স্পিকার আব্দুল মালেক উকিল লন্ডনে বসে কী মন্তব্য করেছিলেন তা সকলের-ই জানা। এটি ঐতিহাসিকভাবে সুস্পষ্ট যে, ১৫ই আগস্ট হত্যাকাণ্ডের সুবিধাভোগী (বেনিফিসিয়ার) ছিল খন্দকার মোশতাকের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ নেতারাই।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.