করোনায় ৯৮ শতাংশ অসহায় মানুষের জীবন মান বিপন্ন হয়েছে অতিমাত্রায় : জরিপের ফলাফল

অনলাইন ডেস্ক ঃঃ

মহামারীর কারনে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ৮৭ শতাংশই খাদ্য ও পুষ্টির সঙ্কটে রয়েছে। সীমিত পরিসরে কাজ চললেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষের সঙ্কট কাটেনি। ৯৮ শতাংশ গরিব মানুষের জীবন-যাত্রা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দরিদ্র মানুষের খাদ্য ও পুষ্টির উপর কোভিড ১৯-এর প্রভাব শীর্ষক এক জরিপে এসব তথ্য জানায় খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার ভার্চুয়াল এক আলোচনা সভায় জরিপের গবেষণাপত্রটি উপস্থাপনা করেন বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো নাজনীন আহমেদ। খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ ও পিকেএসএফের চেয়ারম্যান কাজী খলীকুজ্জমান আহমদের সভাপতিত্বে এ আলোচনা সভায় যোগ দেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমানারা খানুম। এতে আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. এস এম জুলফিকার আলী ও আইসিসিও কোঅপারেশন বাংলাদেশের কর্মসূচি প্রধান মো. আবুল কালাম আজাদ। এই জরিপে দেশের ৮টি বিভাগের ৩৭টি জেলায় দৈবচয়ন পদ্ধতিতে, নির্দিষ্ট প্রশ্নমালার ভিত্তিতে অর্থনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ৮৩৪ জন উত্তরদাতার কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। নগর ও গ্রামীণ দরিদ্র মানুষের পাশাপাশি আদিবাসী জনগোষ্ঠীও এতে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৪৩ শতাংশ ছিলেন নারী। নাজনীন বলেন, জরিপ অনুযায়ী, দেশব্যাপী লকডাউন চলাকালে ৯৮ দশমিক ৩ শতাংশ দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ৮৭ শতাংশ দরিদ্র মানুষ পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাদ্য প্রাপ্তির সমস্যায় পড়েছেন। দরিদ্র পরিবারগুলোর পাঁচ শতাংশই দিনে মাত্র একবেলা খেয়েছেন। অথচ মহামারী শুরুর আগে উত্তরদাতাদের ৯১.৬ শতাংশ দিনে তিন বেলা এবং বাকিরা দুবেলা খাবার খেতে পারতেন। সব বিভাগেই দরিদ্র লোকেরা পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাবারের তীব্র অভাবে ভুগছিলেন, যা তাদেরকে দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকির সামনে ফেলে দিয়েছে। যদিও মাত্র ১০ শতাংশ মানুষ এ সময় সাধারণ অসুস্থতায় ভুগেছেন বলে জানিয়েছেন। গবেষণাপত্রে বেশকিছু সুপারিশও তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো: এগুলোর মধ্যে দরিদ্র মানুষের জরুরি খাদ্য সহায়তা সহজলভ্য করার জন্য বিভিন্ন সরকারি উদ্যোগ (নগদ সহায়তা বা অন্যান্য) বৃদ্ধি করা; বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা সুবিধাসহ নগদ অর্থ মোবাইল পরিসেবা ব্যবহার করে নিয়মিত সুবিধাভোগীদের কাছে প্রেরণ করা; দরিদ্র শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা; দরিদ্র মানুষের জন্য জীবিকার সুযোগ নিশ্চিত করতে ক্ষুদ্র, মধ্য ও মাঝারি উদ্যোগ (এসএমই) এবং অনানুষ্ঠানিক খাতের উদ্যোগের জন্য সরকার কর্তৃক ঘোষিত বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজগুলি অবিলম্বে কার্যকর করা; কৃষির সরবরাহ ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা; কোভিড-১৯ সম্পর্কিত স্বাস্থ্য সচেতনতা (মাস্ক ব্যবহার ও হাত ধোয়া) বৃদ্ধি করার কথা বলা হয়েছে। নাজমানারা বলেন, করোনা একটি নতুন পরিস্থিতি তৈরি করেছে, তাতে আরো মানুষ দারিদ্র্যে পতিত হতে পারে বলে আমরাও মনে করি। আমরা যে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য ডাটাবেজ এখনও করতে পারিনি সেটি একটি বড় সমস্যা। যেজন্য প্রধানমন্ত্রী ৫০ লক্ষ পরিবারের জন্য যে অর্থ সহায়তা প্রদানের কার্যক্রম উদ্বোধন করেছিলেন তা কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। খাদ্য সহায়তার ক্ষেত্রে ১৫ লাখ উপকারভোগীর মধ্যে ৬ লাখ মানুষের সমস্যা রয়েছে, যা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দেশ এখন একটি জটিল অবস্থার মধ্যে রয়েছে। এখন অর্থনৈতিক কার্যক্রম শুরু হলেও অবস্থার উন্নতি যে খুব হয়েছে তা মনে হয় না। আগামী দিনে আয়ের সুযোগ না বাড়লে দরিদ্র মানুষ খাদ্য ও পুষ্টির ক্ষেত্রে আরো নেতিবাচক পরিস্থিতিতে পতিত হবেন। টিকে থাকার জন্য মানুষের সুযোগগুলো কমে যাচ্ছে, এখন ধার দেয়ার মানুষও পাওয়া যাচ্ছে না

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.