ঢাকায় আনার পর র‌্যাব সদর দফতরে সাহেদকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে

 

অনলাইন, সংবাদ জমিন ডেস্ক ঃঃ

র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হওয়া রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট হাসপাতাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান সাহেদ করিম ওরফে মো. সাহেদকে ঢাকায় আনা হয়েছে। সাহেদকে বহনকারী হেলিকপ্টার বুধবার সকাল ৯টার দিকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় তেজগাঁও বিমানবন্দরে এসে পৌঁছে। সাতক্ষীরা থেকে র‌্যাবের অভিযান দলের হেলিকপ্টারযোগে তাকে ঢাকায় আনা হয় বলে র‌্যাবের লিগ্যাল ও মিডিয়া উইং নিশ্চিত করেছে। ঢাকায় আনার পর প্রতারক সাহেদকে এখন নেওয়া হয়েছে র‌্যাবের সদর দপ্তরে। সেখানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গেছে। সাহেদ সম্পর্কে বুধবার সকালে র‌্যাবের লিগ্যাল ও মিডিয়া ইউংয়ের পরিচালক আশিক বিল্লাহ বলেন, তিনি (সাহেদ) ছদ্মবেশে বোরকা পরে নৌকা দিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। আমাদের কাছে গোপন তথ্য ছিল। আমরা বিভিন্ন মাধ্যম থেকে তথ্য পেয়ে তাকে গ্রেফতার করি। তার বাসা সাতক্ষীরায়। কিন্ত তিনি তারই জেলায় ছদ্মবেশে বিভিন্ন যানবাহনে চলাফেলা করেছিলেন। তাকে গ্রেফতারে এত দেরি হলো কেন, এ প্রশ্নের জবাবে মিডিয়া ইউংয়ের পরিচালক বলেন, আমরা তার সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করছিলাম। সব সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল। তাই সময়ে লেগেছে। তিনি জানান, প্রথমে তাকে র‌্যাব সদর দফতরে নেয়া হবে। সেখানে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদের পর যদি কোথায় অভিযান চালানোর প্রয়োজন হয় চালানো হবে। এর আগে, করোনা টেস্টের ভুয়া রিপোর্ট প্রদান, অর্থ আত্মসাতসহ প্রতারণার অভিযোগে সাহেদকে গ্রেফতার করে র‌্যাব । বুধবার সাতক্ষীরা সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গত ৬ জুলাই রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর শাখায় অভিযান চালায় র‌্যাব । অভিযানে ভুয়া করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট, করোনা চিকিৎসার নামে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়ম উঠে আসে। পরে রোগীদের সরিয়ে রিজেন্টের উত্তরা ও মিরপুর শাখা সিলগালা করে দেয়া হয়। গ্রেফতার করা হয় ৮ জনকে। এরপর বৃহস্পতিবার রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদের প্রধান সহযোগী তারেক শিবলী গ্রেফতার করা হয়। হেফাজতে নেয়া হয় টিভি নাটকের অন্যতম প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান টেলিহোমর প্রধান ও সাহেদের ভায়রা মোহাম্মদ আলী বশিরকে। এর আগে র্যা বের ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেছিলেন, পরীক্ষার নামে ভুয়া রিপোর্ট দিয়ে পৃথিবীর অন্য কোন দেশ এই ইতিহাস তৈরি করেছে বলে আমার জানা নেই। আমার ধারণা একমাত্র বাংলাদেশেই এই সমস্ত কিছু লোক টেস্টের নামে আমাদের দেশকে কলঙ্কিত করেছে। আমরা আশা করছি, এই অপরাধের কারণে তাদের মারাত্মক শাস্তি হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.