ভিপি নূর বললেন, অপরাধী হলে আমার বিচার হোক

সংবাদ জমিন, অনলাইন ডেস্ক ঃঃ

হাসান আল মামুন দোষী হলে তার বিচার হোক। নুর অপরাধী হলে নুরের বিচার হোক। এই ছাত্রী যদি অপরাধী হয় তারো বিচার হোক। তবে দলকানা বিচার হলে চলবে না। আমি চাই একটা সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্ত হোক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সদ্য সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। নুর সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক। মানবজমিন লাইভ ‘না বলা কথা’র ২৯তম পর্বে যুক্ত হয়ে তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকার কারণে ছাত্রলীগ আজকে বেপরোয়া হয়ে গেছে। গণধর্ষণ করছে, শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করছে, চাঁদাবাজি করছে এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রম করছে।

আমরাই কিন্তু তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে। আমরাও চাই ধর্ষণের বিচার হোক। সুষ্ঠু তদন্ত হোক। কিন্তু সেই ছাত্রী অভিযোগ আনলেন আমি নাকি বিচারের আশ্বাস দিয়ে হুমকি দিয়েছি। আমার সঙ্গে নাকি ২৪শে জুন তার সঙ্গে নীলক্ষেতে দেখা হয়েছিলো। এর একটি যদিও প্রমাণ করতে পারেন আমি সব অভিযোগ মাথা পেতে নেবো। আবার ভিপি নুর ধর্ষণের বিচার করবারতো কেউ না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শাখা সভাপতি সনজিৎ চন্দ্র দাস এই মেয়েকে পেট্রোনাইজ করে মামলাটি করাচ্ছে। হাসান আল মামুনকে কী গ্রেপ্তার করা হয়েছে? নাকি তুলে নিয়ে গেছে আমরা কিন্তু জানি না। আমরা কিন্তু হাসান আল মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি।

নুরুল হক নুর বলেন, আমরা ছাত্র তথা গণমানুষের জন্য আমৃত্যু সংগ্রাম করব। আমরা দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য প্রয়োজনে লড়াই সংগ্রাম করা, নিজেকে উৎসর্গ করব। দেশের বর্তমানে যেহেতু একটা স্বৈরশাসন রয়েছে। ফ্যাসিবাদের জাতাকলে পৃষ্ঠ মানুষ। দেশের বিচার বিভাগ ধ্বংস। নির্বাচন হাস্যকর অবস্থায় গিয়েছে। বাংলাদেশ বিদেশী শক্তির কাছে জিম্মি হয়ে আছে। ভারতের আগ্রাসন চলছে। এইসব থেকে মুক্ত করে নতুন ধারার রাজনীতি বিনির্মাণ করার জন্য আমরা এগুচ্ছি।

আমরা কোটা আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, রিফাত হত্যা, পিয়াজের দাম বৃদ্ধি, কৃষকের ফসলের ন্যায্য মূল্য ইত্যাদি আন্দোলনে সোচ্চার ছিলাম। ডাকসুতে আমাদের দল ১১টি পদে জয় লাভ করেছিলো। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের দলকাণা প্রশাসন সেই আমাদের বিজয়কে ছিনতাই করেছিলো। বাধ্য হয়ে দুটি পদ অন্তত ঘোষণা করে তারা। যেহেতু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে আমাদের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে। আজকে যেহেতু আমরা রাজনৈতিক দল হিসেবে নিজেদের ঘোষণা দিয়েছি। সারা দেশে কাজ করছি। আমাদের সব শ্রেণির লোকের কাছে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে। এটি আর বলার অবকাশ রাখে না। ইতোমধ্যে আমাদের চারটি ইউং তৈরি হয়েছে, আরেকটি চলমান রয়েছে। আশা করছি বছরের শেষে হয় একটি নাগরিক ফোরাম কিংবা একটি রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ করবো।

লাইভে ২১শে সেপ্টেম্বর আটকের বিষয়ে বলেন, এটা আমার জন্য দুর্ভাগ্য যে বর্তমান বাংলাদেশের পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র আমার মতো একজন ছাত্রনেতার বিপক্ষে। ঢাবি শিক্ষার্থীর ধর্ষণের অভিযোগটি আমাকেসহ ছাত্র অধিকার পরিষদের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে জড়ানো হয়েছে। এটা করা হয়েছে রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য। অনেক নাটকীয় ঘটনার পরে আমাদের ছেড়ে দেয়া হয়। ডিবি কার্যালয়ে আমরা যেটা বুঝতে পারি, এটা ছিলো হুমকি। আমরা যদি সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলি এরকম আরো হামলা হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.