আদালতে মেজর সিনহা হত্যার শুনানী : জনসমাগমে নজিরবিহীন নিরাপত্তা

সংবাদ জমিন, অনলাইন ডেস্ক ঃঃ

মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার আসামি প্রদীপ কুমার দাশ নয় আসামীকে ৬ আগষ্ট কক্সবাজার জেলা জজ আদালতস্থ টেকনাফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (আদালত নম্বর-৩) আদালতে তোলা হয়। বিকেল ৫টার দিকে তাদেরকে এজলাজে তোলা হয়। টানা এক ঘণ্টা আসামীদের নিয়ে শুনানী করা হয়। আলোচিত এই হত্যা মামলার আসামীদের দেখতে কক্সবাজার আদালত চত্বরে উৎসুক মানুষের নজিরবিহীন সমাগত হয়েছে। মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার আসামী প্রত্যাহার হওয়া উপ-পরিদর্শক লিয়াকত ও ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ এজাহারভুক্ত নয় আসামীকে আদালতে তোলার খবর প্রকাশ হয়। সেই খবর পেয়ে কক্সবাজার শহরসহ আশেপাশের বিভিন্ন এলাকার উৎসুক লোকজন কক্সবাজার জেলা আদালত চত্বরে সমবেত থাকে। ক্রমান্বয়ে লোক সমাগম বেড়ে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগমে পরিণত হয়।

এদিকে এই বিপুল উৎসুক জনতার সমাগমের শৃঙ্খলা ঠেকাতে আদালত চত্বরে মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র‌্যাব, গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা। তারা একদিকে বিপুল মানুষের সমাগমে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং পাশাপাশি নিরাপত্তার বজায় রাখার জন্য নিশ্চিদ্র বেষ্টনি জোরদার করেছেন। কেননা দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর এবং প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষী সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা নিয়ে পুরো দেশের মানুষ টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও গুলি ‘স্যুট’ করা সাবেক উপ-পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ আসামীদের প্রতি চরম ক্ষুব্ধ ছিলো। সে বিবেচনায় অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটারও আশঙ্কা থেকে যায়। তাই নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা জোর করা হয় বলে একটি সুত্র জানিয়েছে। জানা গেছে, সাবেক ওসি প্রদীপসহ ৯ আসামীকে টেকনাফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের (আদালত নম্বর-৩) সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের আদালতে আসামীদের তোলা হয় এবং তাদের আইনজীবি তাদের জামিন আবেদন করেন। পরে দীর্ঘ এক ঘণ্টা শুনানী হয়।

গত ৩১ জুলাই নিহত হওয়া মেজর (অবঃ) সিনহা মো. রাশেদ খানের বড়বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস বাদী হয়ে ৫ আগস্ট সকালে ৯ জনকে আসামী করে মামলাটি দায়ের করেন। টেকনাফ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে করা ওই মামলায় প্রধান আসামী বাহারছড়া ফাঁড়ির সাবেক আইসি লিয়াকত আলী ও ২ নং আসামী টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.