বন্যা এবার দীর্ঘস্থায়ী রুপ নিতে পারে

সংবাদ জমিন, অনলাইন ডেস্ক ঃঃ

বন্যা এবার দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক এ কে এম সাইফুল ইসলাম বলছেন, প্রচুর রাস্তাঘাট আর অবকাঠামোগত উন্নয়ন হওয়ায় নদীর মুখ অনেক জায়গা ভরাট হয়ে গেছে। তাতে বন্যা আর আগের মত বেশি এলাকায় না ছড়িয়ে অববাহিকায় আটকে থাকছে, তাতে বন্যার স্থায়িত্ব বাড়ছে।

“এবারের বন্যায় বেশ কিছু নতুন চিত্র আমরা দেখতে পাচ্ছি। আগে বন্যা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ত। এখন বন্যার গতিপথও আগের চেয়ে কিছুটা বদলে গেছে বলে মনে হচ্ছে।”বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, উজানের দেশ নেপাল, ভারত ও ভুটান থেকে বাংলাদেশের তিনটি প্রধান নদী গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা হয়ে মে থেকে অক্টোবরের মধ্যে ৮ লাখ ৪৪ হাজার কোটি কিউবিক মিটার পানি প্রবাহিত হয়, যা বার্ষিক মোট প্রবাহের এটি ৯৫ শতাংশ। উজানে বৃষ্টিপাত বেশি হলে সেই পানি সাগরে যাওয়ার পথে নদীর তীর ছাপিয়ে প্লাবিত করে বাংলাদেশের নিম্নাঞ্চল।ফলে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, গঙ্গা-পদ্মা এবং মেঘনা অববাহিকার মোটামুটি ২৬ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা প্রতিবছরই বর্ষা মৌসুমে প্লাবিত হয়, যা দেশের মোট ভূখণ্ডের ১৮ শতাংশের মত। তিন বছর আগেও বন্যায় দেশের ৪২ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। আর এবারের বন্যা মৌসুমে এখন পর্যন্ত দেশের অন্তত ৩১ শতাংশ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। সে হিসেবে এবারের বন্যার ব্যাপ্তি ততটা মারাত্মক হয়নি। কিন্তু স্থায়িত্ব বেড়ে যাওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। দীর্ঘ সময় বন্যা থাকলে বাঁধ টেকে না, মাটিও নরম হয়ে যায়। পানি যখন নামে, তখন পাড় ভাঙে বেশি। ফলে এবার ভাঙন মারাত্মক আকার নিতে পারে।”

চলতি মৌসুমে বন্যা শুরু হয়েছিল গত ২৬ জুন। প্রথম ধাপে অন্তত ১০টি জেলায়, দ্বিতীয় ধাপে আরও আটটি জেলায় বিস্তার ঘটে বন্যার। ২৬ জুলাই পর্যন্ত সব মিলিয়ে দেশের ৩১ জেলার নিম্নাঞ্চল তিন ধাপে প্লাবিত হয়েছে বলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। ১৯৮৮, ১৯৯৮ ও ২০০৭ সালে দেশে বড় বন্যা হয়েছে। সেগুলোর তুলনায় এবারের বন্যার ধরনে ভিন্নতা রয়েছে বেশ কিছু দিক দিয়ে।আবার সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে ২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৯ সালের বন্যার সঙ্গে অনেক দিক দিয়ে মিল রয়েছে। সে কারণেই তার মনে হচ্ছে, দেশে বন্যার চরিত্র হয়ত সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিছুটা পাল্টে যেতে শুরু করেছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.