মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের প্রশ্ন ফাঁসের মূল নায়ক জসিমসহ প্রায় সকলের বাড়ি মানিকগঞ্জের সিংগাইরে

আবু সায়েমঃ
স্বাস্থ্য খাতে জেকেজির আরিফ, সাবরিনা এবং রিজেন্ট এর সাহেদের জালিয়াতিতে দেশ তোলপাড়। এবার খোদ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রেসে ছাপা মেডিকেল এবং ডেন্টাল কলেজের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের এক পারিবারিক চক্রের সন্ধান পেয়েছে সিআইডি।
গত ১৯ জুলাই এ চক্রের এক সদস্য এস এম সানোয়ার হোসেন নামে একজনকে গ্রেফতার করতে সমর্থ হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সিআইডি। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মিরপুরে অভিয়ান চালিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিশাল এই চক্রের মাস্টার মাইন্ড মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়নের খান বানিয়াড়া গ্রামের সাহা ভূঁইয়ার ছেলে জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া ওরফে মুন্নু, তার ভাতিজা একই এলাকার মোঘল মিয়ার ছেলে পারভেজ খান,বোন জামাই জাকির হোসেন দিপুকে গ্রেফতার করে। অভিযান চালিয়ে জসিম উদ্দিনের কাছ থেকে ২ কোটি ২৭ লক্ষ টাকার সঞ্চয়পত্র,২ কোটি ৩০ লক্ষ টাকার বিভিন্ন ব্যাংকের ৩০টির অধিক চেক এবং পারভেজ খানের কাছ থেকে ৮৪ লাক্ষ টাকার ১০টির অধিক ব্যাংকের চেক উদ্ধার করে সিআইডি। ফাঁস করা প্রশ্ন বিক্রি করে তারা এই টাকা অর্জন করে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে মালিবাগ সিআইডি দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলন হয়।এতে সিআইডির সাইবার অপরাধ বিভাগের সহকারী পুলিশ সুপার সুমন কুমার দাস বলেন,২০১৩ সাল থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এদের কাছ থেকে পাওয়া গেছে।১৯শে জুলাই ১৪ জনের নাম উল্লেখ্সহ আরও অজ্ঞতনামা ২০০ জনকে আসামী করে মিরপুর থানায় পাবলিক পরীক্ষা আইনে সিআইডি মামলা করেছে। আদালত তিনজন আসামীর ৭ দিন করে রিমান্ড মন্জুর করেছে।গতকাল শুক্রবার ছিল রিমান্ডের প্রথম দিন। প্রাথমিকভাবে এরা প্রশ্নফাঁসে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। রিমান্ড আরও তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে সিআইডির ধারনা।
বিভিন্ন মিডিয়া সূত্র থেকে আরও জানা যায়,পারিবারিক প্রশ্ন ফাঁসের এই চক্রটি,একজন হচ্ছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রেসের মেশিনম্যান আঃ সালাম খান, পিতা আঃ সামাদ খান, বাড়ী মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার তালেবপুর ইউনিয়নের কাশিমপুর গ্রামে। যিনি এর আগেও প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায়ে অভিযুক্ত হলেও অদৃশ্য কারণে ১৯৮৮ সাল থেকে একই পদে বহাল তবিয়তে ছিলেন। ছাপাখানার ম্যানেজার, ফায়েজুর রহমান বলেন,সালাম খুব ক্ষমতাবান ছিলেন,উপর লেবেলের অনেকের সাথে তার হাত ছিল। তার কথায় স্বাস্থ্য খাতের আবজাল দম্পতির কথাও উঠে আসে। যারা হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে বিদেশে পালাতক। সালামের কাজ ছিল প্রশ্নপত্র বাইরে আানা,আর তারই খালাতো ভাই মাস্টার মাইন্ড জসিম, স্ত্রী শারমিন শিল্পী,ভাতিজা পারভেজ, বোন জামাই জাকির হোসেন দিপু, ভাইরা সামিুউল জাফর সিটু,দুলাভাই আলমগীর হোসেন ভাগনে রবিনসহ আরও অনেকেই। টাকার বিনিময়ে এভাবে প্রশ্নপত্র সারাদেশে এরা হাজারও মেধাবীর স্বপ্ন ধূলিস্মাৎ করছে। মানিকগঞ্জবাসী এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.