ইন্টারনেট সুবিধা পাবে শিক্ষার্থীরা ঃ শিক্ষামন্ত্রী

 

নিজস্ব বার্তা প্রতিবেদকঃ ডা. দীপু মনি শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ইন্টারনেট সুবিধা দেয়ার জন্য মোবাইল অপারেটরদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘মহামারি করোনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। এর মধ্যে লেখাপড়া চালিয়ে নিতে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এতে অংশগ্রহণ করার ক্ষেত্রে অনেক শিক্ষার্থীর পক্ষেই ইন্টারনেটের ব্যয় বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে ইন্টারনেট দিতে অথবা স্বল্পমূল্যে ইন্টারনেট প্যাকেজ দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

বিষয়টি নিয়ে মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আশা করি মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলো বিষয়টি ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখবে।’

আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক উপ-কমিটি আয়োজিত এক অনলাইন আলোচনা সভায় সোমবার শিক্ষামন্ত্রী এ আহ্বান জানান। ‘বর্তমান বৈশ্বিক সংকটকালে শিক্ষা বিষয়ে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল খালেক। সভা সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার চাঁপা।

অনলাইন সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। আলোচক হিসেবে আরও যুক্ত ছিলেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মাকসুদ কামাল এবং দৈনিক ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত প্রমুখ।

প্রতিটি সংকটই নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে দেয়-মন্তব্য করে শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চাহিদা অনুযায়ী আমাদের জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে হলে তথ্য ও প্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। আমাদের হয়তো কিছু দিনের মধ্যে ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রমে যেতে হতো। করোনা আমাদের এক্ষেত্রে এগিয়ে দিয়েছে।’

করোনাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় টিউশন ফি প্রদানের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অভিভাবক সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘একেবারে টিউশন ফি না দিলে প্রতিষ্ঠান তাদের শিক্ষকদের বেতন দিতে পারবে না। তাই দুই পক্ষকেই কিছুটা ছাড় দিয়ে মানবিক হতে হবে।’

অনুষ্ঠানের ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার শিক্ষা বিস্তারের স্বার্থে শিক্ষার্থী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ইন্টারনেট সুবিধা সহজলভ্য করতে সম্ভাব্য সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার বিস্তার এবং মেধাবী জাতি তৈরিতে ইন্টারনেটকে ব্যয় নয়, রাষ্ট্রের বড় বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে হবে। ভবিষ্যৎ শিক্ষার ক্ষেত্র কেবল ক্লাসরুম কেন্দ্রিক হবে না। প্রচলিত চক-ডাস্টার পদ্ধতির সঙ্গে ক্লাসরুম ব্যবস্থা ডিজিটাল করতে হবে। শিক্ষা পাঠ্যক্রমে ডিজিটাল শিক্ষা পদ্ধতি প্রবর্তন এবং পেশাদারদের মাধ্যমে তৈরি মানসম্মত ডিজিটাল কনটেন্টের মাধ্যমে পাঠদান এখন সময়ের চাহিদা।’

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.