ঝড়ের আশংকায় ট্রাম্পের নির্বাচনী সমাবেশ পন্ড

সংবাদ জমিন অনলাইন ডেস্ক ঃ

তীব্র ঝড়ের আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ার অঙ্গরাজ্যে পূর্বনির্ধারিত নির্বাচনী সমাবেশ পিছিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্বাস্থ্য সতর্কতা উপেক্ষা করেই এ সপ্তাহে সেখানে এর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে ঝড়ের আশঙ্কায় পিছু হটতে হয় ট্রাম্প শিবিরকে। শুক্রবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি কেলেইঘ ম্যাক ইনানি নিউ হ্যাম্পশায়ারের সমাবেশ স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সিএনএন, আল জাজিরা। ১০ জুলাই শুক্রবার গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে, আসন্ন ঝড়ের বাস্তবতায় এটি এক বা দুই সপ্তাহ পর অনুষ্ঠিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রের আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী জো বাইডেন। এখন পর্যন্ত জনমত জরিপগুলোতে এগিয়ে রয়েছে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থীরাই। তবে জো বাইডেন জানিয়েছেন, বিদ্যমান করোনা পরিস্থিতিতে তিনি সশরীরে কোন নির্বাচনী প্রচারণা চালাবেন না। জো বাইডেন বলেন, শুধু নিজের জন্য নয়; বরং সারাদেশের মানুষের জন্যই আমি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যুক্তরাষ্ট্রে কোভিড-১৯ মহামারি ও বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে নির্বাচনী প্রচারে ওকলাহোমার টালসায় সমাবেশ করেছেন ডনাল্ড ট্রাম্প। একাধিক তথ্যসূত্রের বরাতে জানা যায়, শনিবারের ওই সমাবেশে প্রত্যাশার তুলনায় লোক জমায়েত হয়েছে অনেক কম। অর্ধেকেরও বেশি আসন ফাঁকা ছিল। সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্রে কোভিড-১৯ পরীক্ষার গতি কমিয়ে দিতে চান বলে মন্তব্য করেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি জানান, আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধির জন্য পরীক্ষাই দায়ী। তবে ওই মন্তব্য ‘কৌতুকছলে’ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ভাইরাস শনাক্তকরণ পরীক্ষাকে ‘দুই দিকের ধারালো তলোয়ার’ বলেও অভিহিত করেছেন তিনি। ট্রাম্প আরও জানান, পরীক্ষা বেশি হওয়ায় বেশি আক্রান্তের সন্ধান মিলছে। তিনি বলছিলেন, ‘যখন আপনি ব্যাপক হারে পরীক্ষা করবেন, আপনাকে অনেকের পরীক্ষা করতে হবে এবং আক্রান্তও অনেক পাবেন। সে কারণেই আমি বলেছি, পরীক্ষার হার কমাতে। এরপরও তারা পরীক্ষা করেই যাচ্ছে।’ সিএনএনের বরাতে জানা যায়, কোভিড-১৯ এর নাম নিয়েও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘কোভিড-১৯ এমন একটি রোগ, ইতিহাসের অন্য কোনো রোগের এত নাম নেই। আমি একে ‘কুং ফ্লু’ বলতে পারি। আরও ১৯টি নাম বলতে পারি। অনেকেই এটাকে ভাইরাস বলছেন। অনেকেই ফ্লু বলেন। পার্থক্য কী?‘ জমায়েতে মানুষ কম হওয়া প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে দোষারোপ করেছেন ট্রাম্প। তিনি জানান, গণমাধ্যম মানুষকে বুঝিয়েছে ‘(ওখানে) যাবেন না, আসবেন না, কিছু করবেন না।’ ওই সমাবেশের বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভকারীদেরও তিনি ‘খারাপ কাজ’ এর জন্য দায়ী করেন। সম্প্রতি ভারত ও চীনের সীমান্ত সংঘর্ষ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, পরিস্থিতি খুব গম্ভীর। আমরা ভারতের সঙ্গে কথা বলছি, চীনের সঙ্গে কথা বলছি। ওদের মধ্যে বড় সমস্যা দেখা গিয়েছে। ওরা সংঘাতে জড়িয়েছে, আমরা দেখবো কী ঘটে। আমরা চেষ্টা করব ওদের সাহায্য করতে। এদিকে আরও একাধিক সূত্রের তথ্যবিবরণিতে জানানো হয়েছে- ট্রাম্পের আয়কর বিবরণী দেখতে পারবেন নিউইয়র্কের কৌঁসুলিরা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আয়কর বিবরণী খতিয়ে দেখতে পারবেন যুক্তরাষ্ট্রীয় সুপ্রিমকোর্ট। আয়কর বিবরণী প্রকাশের আপিলেও হারলেন ট্রাম্প বৃহস্পতিবার দেয়া এ আদেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত নিউইয়র্কের কৌঁসুলিদের প্রেসিডেন্টের আয়কর বিবরণী দেখার অনুমতি দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট হওয়ায় দায়মুক্তি পাবেন- এ অজুহাতে ট্রাম্পের আইনজীবীরা এতদিন কারও সঙ্গে তার আয়কর বিবরণী শেয়ার করেনি। নিউ ইয়র্কের কৌঁসুলিরা ছাড়াও ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদের দুটি কমিটি প্রেসিডেন্টের আয়কর বিবরণী দেখতে চেয়েছিল। বৃহস্পতিবারের আদেশে আদালত ট্রাম্পের আয়কর সংক্রান্ত তথ্য কংগ্রেস সদস্যদের দেয়া যাবে না বলেও জানিয়েছে। আগের প্রেসিডেন্টদের মতো নিজের আয়কর বিবরণী জনসম্মুখে প্রকাশ না করে চাপে থাকলেও নিজের সিদ্ধান্ত থেকে একচুলও সরেননি ট্রাম্প। অভিশংসন ছাড়া মার্কিন সংবিধান প্রেসিডেন্টকে যাবতীয় অপরাধের তদন্ত থেকে দায়মুক্তি দিয়েছে যুক্তি দিয়ে ট্রাম্পের আইনজীবীরাও শুরু থেকেই এ আয়কর বিবরণী প্রকাশের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। কংগ্রেস সদস্যরা প্রেসিডেন্টের আয়কর সংক্রান্ত নথি দেখার জন্য যৌক্তিক কোনো কারণও হাজির করেনি, বলেছিলেন তারা। বৃহস্পতিবার সুপ্রিমকোর্টের ৯ বিচারকের ৭ জনই প্রেসিডেন্টের আয়কর বিবরণী নিউইয়র্কের কৌঁসুলিরা দেখতে পারবেন- এ অবস্থানের পক্ষে সমর্থন জানান। রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুরু থেকেই কর ফাঁকি, জালিয়াতি কিংবা ‘স্বার্থের সংঘাত’ বিষয়ক কোনো ধরনের অন্যায়ে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে আসছেন। তিনি তার কর সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তদন্তকে ‘উইচ হান্ট’ হিসেবেও অভিহিত করেছেন। ‘সুপ্রিম কোর্ট মামলাটিকে নিম্ন আদালতে পাঠিয়েছে। যুক্তিতর্ক চলবে। এটা রাজনৈতিক অভিযোগ’- বলেছেন ট্রাম্প।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.