ইরানের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপে যুক্তরাষ্ট্র পরাজিত

সংবাদ জমিন, অনলাইন ডেস্ক ঃঃ

জাতিসংঘে ইরানের বিরুদ্ধে অবরোধ প্রস্তাবে আবার পরাজিত হলো যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের ওপর আন্তর্জাতিক অবরোধ নতুন করে আরোপের প্রস্তাব জাতিসংঘে উত্থাপন করে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য দেশের মধ্যে ১৩টি দেশই এ প্রস্তাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র পরাজিত হয় এক্ষেত্রে। তাদের প্রস্তাবকে বাতিল ঘোষণা করা হয়। বলা হয়, এই প্রস্তাব আনা হয়েছে ইরানের সঙ্গে ২০১৫ সালে সম্পাদিত পারমাণবিক চুক্তির অধীনে। কিন্তু ওই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে গিয়েছে দুই বছর আগে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।

এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ইরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের অবরোধ ফিরিয়ে আনার জন্য ৩০ দিনের দিন গণনা শুরুর প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা। এরপরই লিখিত ভাবে এর বিরুদ্ধে অবস্থানের কথা জানিয়েছে দীর্ঘদিনের মিত্র যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও বেলজিয়াম। এ ছাড়া বিরোধিতার কথা জানিয়ে দিয়েছে চীন, রাশিয়া, ভিয়েতনাম, নাইজার, সেইন্ট ভিনসেন্ট এন্ড গ্রানাডাইনস, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইন্দোনেশিয়া, এস্তোনিয়া ও তিউনিশিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ২০১৫ সালে বিশ্ব শক্তিগুলোর সঙ্গে ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি বিষয়ে যে চুক্তি করেছিল তা তারা লঙ্ঘন করছে। কিন্তু এখানে উল্লেখ করার বিষয় হলো এই চুক্তিকেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এ যাবতকালের সবচেয়ে খারাপ চুক্তি বলে আখ্যায়িত করেন এবং ২০১৮ সালে তিনি এই চুক্তি থেকে একতরফাভাবে বেরিয়ে যান।

কূটনীতিকরা বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে এই চুক্তির অধীনে অবরোধ পুনর্বহাল চায় না রাশিয়া, চীনসহ অনেক দেশ। এ বিষয়টিতে রাশিয়া ও চীনকে শুক্রবার সতর্ক করেছেন পম্পেও। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, জাতিসংঘে ইরানের বিরুদ্ধে অবরোধ পুনর্বহাল যদি তারা প্রত্যাখ্যান করে তাহলে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র পদক্ষেপ নেবে। এরই প্রেক্ষিতে ইরান বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত ব্রায়ান হুক সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেছেন। তিনি বলেছেন, কারো অনুমোদন প্রয়োজন হবে না যুক্তরাষ্ট্রের। ইরান স্বেচ্ছায় পারমাণবিক কর্মসূচিতে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা তারা লঙ্ঘন করছে। আমাদের ৩০ দিন গণনা শুরু হয়ে গেছে।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বৃদ্ধির একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান হয় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে। অক্টোবরে এর মেয়াদ শেষ হবে। এই প্রস্তাবে শুধুমাত্র ডমিনিক প্রজাতন্ত্র ভোট দেয় ওয়াশিংটনের পক্ষে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.