সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভারত সদা প্রস্তুত : মোদি

সংবাদ জমিন, অনলাইন ডেস্ক ঃঃ

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, দেশের সার্বভৌমত্বকে যারাই চ্যালেঞ্জ করেছে তাদেরকেই সেনা সদস্যরা সমুচিত জবাব দিয়েছে। ৭৪তম স্বাধীনতা দিবসে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে মোদি বলেন, এলওসি (পাকিস্তানের সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ রেখা) থেকে এলএসি (চীনের সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ রেখা) যেখানেই ভারতের সার্বভৌমত্ব চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে সেখনেই আমাদের সেনারা নিজেদের ভাষায় জবাব দিয়েছে। সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে গত জুনে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় চীনা সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘাতের দিকে ইঙ্গিত করেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, ভারতের মর্যাদা আমাদের কাছে সবার উপরে। আমাদের জওয়ানরা কী পারে, আমাদের দেশ কী পারে, লাদাখে তা সারা দুনিয়া দেখেছেন। আজ আমি রেড ফোর্টের সব সাহসী সেনাদের স্যালুট জানাচ্ছি। গত ১৫ জুন লাদাখে চীনা বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতে অন্তত ২০ ভারতীয় সেনা নিহত হয়। উত্তেজনা নিরসনে চীনের সঙ্গে আলোচনা চললেও স্বাধীনতা দিবসে মোদির ভাষণকে বেইজিংয়ের জন্য কঠোর সতর্কবার্তা বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। নরেন্দ্র মোদি বলেন, সন্ত্রাসবাদ হোক আর সম্প্রসারণবাদ হোক ভারত উভয়ের বিরুদ্ধেই লড়াই করছে। আজ সারা দুনিয়া ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে আর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে (অস্থায়ী সদস্যের) স্থান নিশ্চিত করতে ভারত ১৯২টি দেশের মধ্যে ১৮৪টি ভোট পেয়েছে বলেও জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

রেডফোর্ট থেকে টানা সপ্তম স্বাধীনতা দিবসে দেওয়া ২৬ মিনিটের ভাষণে নরেন্দ্র মোদি ‘আত্মনির্ভর ভারত’, ‘ভোকাল ফর লোকাল’ এবং ‘মেইক ইন ইন্ডিয়া টু মেইক ফর ওয়ার্ল্ড’ এর গুরুত্ব আরোপ করেন। করোনাভাইরাসের মহামারি মোকাবিলায় যারা সামনে থেকে কাজ করছেন তাদের প্রতি সম্মান জানিয়ে মোদি বলেন করোনাভাইরাসের অন্তদত তিনটি ভ্যাকসিন উৎপাদন ও বিতরণের নির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে ভারতের। প্রতিবেশিদের সঙ্গে সম্পর্ক নির্ভর করে নিরাপত্তা, উন্নতি এবং বিশ্বাসের ওপরে উল্লেখ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, যাদের সঙ্গে সীমান্ত আছে তারাই কেবল প্রতিবেশি হয় না। সীমান্ত ভাগাভাগি করলেই প্রতিবেশি হওয়া যায় না, এজন্য হৃদয় ভাগাভাগি করতে হয়। সম্পর্ককে শ্রদ্ধা করলে তা উষ্ণ হয়ে ওঠে। আজ বৃহত্তর প্রতিবেশিদের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ট সম্পর্ক আছে। আমরা একসঙ্গে কাজ করছি এবং পরস্পরের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.

শিরোনাম