হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পালিত হলো পারমাণবিক বোমা হামলার ৭৫-তম বার্ষিকী

সংবাদ জমিন, অনলাইন ডেস্ক ঃঃ

ঘন্টা বাজিয়ে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পালিত হলো প্রথম পারমাণবিক বোমা হামলার ৭৫তম বর্ষপূর্তি। তবে মহামারির কারণে দিবসটির কর্মসূচি সীমিত পরিসরে পালন করা হয়েছে এ বছর।১৯৪৫ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের বোমারু বিমান থেকে ঐ শহরের ওপর ইউরেনিয়ামের এই বোমা ফেলা হয়। এতে প্রাণহানি ঘটে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষের। এর তিনদিন পর পারমাণবিক বোমা হামলা করা হয় নাগাসাকি শহরে। এর দুসপ্তাহ পর জাপানের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসান ঘটে।

হিরোশিমায় দিবসটি পালন উপলক্ষ্যে কয়েক হাজার মানুষ জড়ো হয়। কিন্তু এ বছর জমায়েত খুবই কম ছিল। মাঝে জায়গা রেখে বসানো হয় চেয়ার। অংশ নেওয়া বেশিরভাগ মানুষের মুখে ছিল মাস্ক, জানিয়েছে বিবিসি। স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে কয়েক মুহূর্ত নীরবতা পালন করা হয়। দিনের ঠিক এই সময়েই বোমাটি ফেলা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে হিরোশিমার মেয়র বলেন, এই দিনে একটি বোমায় আমাদের শহর ধ্বংস করে ফেলা হয়েছিল। সে সময় বলা হয়েছিল, আমাদের এখানে পরের ৭৫ বছরে কিছুই হবে না।‘কিন্তু আমরা ঘুরে দাঁড়িয়েছি। এই শহরকে আমরা শান্তির প্রতীকে পরিণত করেছি,’ বলেন তিনি।

এ দিন উপলক্ষ্যে জাতিসংঘের মহাসচিব এন্তোনিও গুতিয়েরেস এ ধরনের অস্ত্র নির্মূলে জাতিসমূহকে নতুন করে প্রয়াস গ্রহণের আহবান জানিয়েছেন। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, বিভেদ, পারস্পরিক অবিশ্বাস ও দুরত্ব আজকে বিশ্বকে পারমাণবিক বোমার প্রতিযোগিতার মধ্যে ফেলেছে।তিনি আরো বলেন, পারমাণবিক ঝুঁকি হ্রাসের একমাত্র উপায় হচ্ছে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ। ১৯৪৫ সালের মে মাসে জার্মান বাহিনি মিত্রশক্তির কাছে আত্মসমর্পণ করে। কিন্তু জাপানের সঙ্গে যুদ্ধ চলতে থাকে। তখন জাপান সরকার একটি শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর জাপানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার লক্ষ্যে পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেয় যুক্তরাষ্ট্র।

সে বছর ৬ আগস্ট লিটল বয় নামে প্রথম বোমাটি ফেলা হয় হিরোশিমায়। সেটাই ছিল বিশ্বের ইতিহাসে কোনো যুদ্ধে প্রথম পারমাণবিক বোমার ব্যবহার।তৎক্ষণাৎ সেই শহরটি গুড়িয়ে যায়, নিহত হয় ৭০ হাজার মানুষ। পরে তার বিকিরণজিনিত বিষক্রিয়ায় হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.