করোনা মোকাবেলায় হিমশিম খাচ্ছে বিশ্বের শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো

সংবাদ জমিন, অনলাইন ডেস্ক রঃঃ

বিশ্বে করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। গত ডিসেম্বরের শেষে চীনের উহানে শুরু হওয়া করোনার সংক্রমণ বিশ্বের ২১৫টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এখনো কার্যকর কোন প্রতিষেধক (ভ্যাকসিন) আবিস্কার না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো প্রাণঘাতি এ ভাইরাসটির সংক্রমণ মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে। ঠেকানো যাচ্ছে না আক্রান্ত ও মৃত্যুর মিছিল।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের পরিসংখ্যান প্রদানকারী নির্ভরযোগ্য সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের ওয়েবসাইট থেকে সোমবার (৩ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় সকাল ৮ টায় সংগৃহীত তথ্যানুযায়ি, বিশ্বেজুড়ে এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন সংখ্যা ১ কোটি ৮২ লাখ ৩৩ হাজার ৯৭৭ জন। মৃত্যুবরণ করেছেন ৬ লাখ ৯২ হাজার ৭৮৫ জন। করোনার সংক্রমণ থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১ কোটি ১৪ লাখ ৪৪ হাজার ৩২ জন। করোনায় সংক্রমণ ও মৃত্যু দুটোরই শীর্ষে আছে যুক্তরাষ্ট্র; এরপর ব্রাজিলের অবস্থান। সংক্রমণে তিন থেকে পাঁচ নম্বরে আছে যথাক্রমে ভারত, রাশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা। মৃত্যু তালিকায় তিন থেকে পাঁচ নম্বরে যথাক্রমে মেক্সিকো, যুক্তরাজ্য ও ভারতের অবস্থান। সংক্রমণ তালিকার ১৬ নম্বরে রয়েছে বাংলাদেশ; করোনার উৎসস্থল চীন নেমে গেছে সংক্রমণ তালিকার ২৯ নম্বরে। বিশ্বে করোনা সংক্রমণের শীর্ষ তালিকার ৬ থেকে ১০ নম্বরে যথাক্রমে রয়েছে- মেক্সিকো, পেরু, চিলি, স্পেন ও কলম্বিয়া। ১১ থেকে ১৫ নম্বর অবস্থানে আছে যথাক্রমে ইরান, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও ইতালি। ১৬ থেকে ২০ নম্বরে আছে যথাক্রমে বাংলাদেশ, তুরস্ক, জার্মানি, আর্জেনটিনা ও ফ্রান্স।

উত্তর আমেরিকার দেশ যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৪৮ লাখ ১৩ হাজার ৬৪৭ জন মানুষ। মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৩৬৫ জনের। আয়তনে চতুর্থ এবং জনসংখ্যায় তৃতীয় অবস্থানে থাকা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশটি ভাইরাসটি প্রতিরোধে হিমশিম খাচ্ছে। প্রায় ৯৩ লাখ ৩৭ হাজার বর্গ কিলোমিটার আয়তনের দেশ যুক্তরাষ্ট্র ৩৩ কোটি মানুষের বসবাস। দেশটিতে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২৩ লাখ ৮০ হাজার ২১৭ জন মানুষ। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে আক্রান্তের সংখ্যা ২৭ লাখ ৩৩ হাজার ৬৭৭, মৃত্যু হয়েছে ৯৪ হাজার ১৩০ জনের। দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম দেশ ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা ১৮ লাখ ৪ হাজার ৭০২, মৃত্যু হয়েছে ৩৮ হাজার ১৬১ জনের। আয়তনে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দেশ রাশিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ৮ লাখ ৫০ হাজার ৮৭০, মৃত্যু হয়েছে ১৪ হাজার ১২৮ জনের। দক্ষিণ আফ্রিকায় আক্রান্তের সংখ্যা ৫ লাখ ১১ হাজার ৪৮৫, মৃত্যু হয়েছে ৮ হাজার ৩৬৬ জনের। করোনার উৎসস্থল চীন চলে গেছে সংক্রমণ তালিকার ২৯ নম্বরে। দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮৪ হাজার ৪২৮, মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ৬৩৪ জনের। সুস্থ হয়েছেন ৭৯ হাজার ১৩ জন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে করোনার সংক্রমণকে পার্ল হারবার এবং টুইন টাওয়ারে হামলার চেয়েও মারাত্মক বলে মন্তব্য করেছেন। ট্রাম্প ও তার মিত্ররা করোনা মাহামারীর জন্য সরাসরি চীনকে দায়ী করছে। তবে চীন বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। পাঁচ মাসে প্রাণঘাতি এ ভাইরাসের সংক্রমণে থমকে গেছে গোটা বিশ্ব। লকডাউনে বিশ্ব অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছে। সংক্রমণ কিছুট নিয়ন্ত্রণে আসায় কয়েকটি দেশ এবং জীবন ও জীবিকার তাগিদে বহু দেশ লকডাউন শিথিল করেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকটি দেশে সংক্রমণ আবার বেড়েছে। করোনার সংক্রমণ রোধে খুব সতর্কতার সঙ্গে লকডাউন এবং অন্যান্য বিধি-নিষেধ ধারাবাহিকভাবে শিথিল করার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

উন্নত দেশগুলো করোনার ভ্যাকসিন আবিস্কারে প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। চলছে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ। ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা করোনার সফল ভ্যাকসিন আবিস্কারের দাবি জানিয়েছেন। চীনও ভ্যাকসিন আবিস্কারের কথা জানিয়েছে। তবে এসব ভ্যাকসিন এখনো বাজারজাত হয়নি

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.

শিরোনাম