নির্বাচন পিছিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করতে চান ট্রাম্প

সংবাদ জমিন, অনলাইন ডেস্ক ঃঃ

আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পেছাতে চান ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডাক ভোটের ফলে জালিয়াতি ও ত্রুটি হতে পারে অভিযোগ করেছেন তিনি। দাবির পক্ষে জোরালো যুক্তি বা প্রমাণ না থাকলেও দীর্ঘদিন থেকেই ডাক ভোটের বিরোধিতা করে আসছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। কোনো সুনির্দিষ্ট সময় উল্লেখ না করলেও ভোটাররা ‘সঠিক, সুষ্ঠুভাবে ও নিরাপদে’ ভোট দিতে পারে এমন সময়ে নির্বাচন করার কথা বলেন তিনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্য করোনার মধ্যে স্বাস্থ্য সতর্কতার কথা বিবেচনা করে ডাকে ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া আরো সহজ করার কথা ভাবছে। যুক্তরাষ্ট্রের আইনে প্রেসিডেন্টের নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন করার ক্ষমতা নেই। নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের জন্য দ্বিকক্ষবিশিষ্ট কংগ্রেসের অনুমোদন লাগবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দুই কক্ষের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেই। ধারাবাহিকভাবে টুইটবার্তায় ট্রাম্প বলছেন, ‘সবার জন্য চিঠিতে ভোট হলে নভেম্বরের নির্বাচন হবে ইতিহাসের সবচেয়ে ত্রুটিপূর্ণ ও জালিয়াতির ভোট। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য খুবই বিব্রতকর ব্যাপার হবে সেটা।’ কোনো যুক্তি না দিয়েই তিনি বলেন, এভাবে ভোট হলে বিদেশি হস্তক্ষেপের সম্ভাবনাও থাকবে, জানিয়েছে বিবিসি। তিনি বলেন, ডেমোক্র্যাটরা সবসময়ই বিদেশীশি হস্তক্ষেপের কথা বলেন, কিন্তু তারা জানে এটা হলেই বিদেশিরা এর মধ্যে ঢুকে পড়তে পারবে। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যেখানেই ডাকে ভোট করার চেষ্টা করা হয়েছে, সেখানে বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে।’

প্রসঙ্গত গত জুন মাসে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী নির্বাচনে ডাকে ভোট নেওয়া হয়। কিন্তু সেই ভোটের ফলাফল আজও দেওয়া সম্ভব হয়নি। তাছাড়া ঠিকঠাকভাবে পূরণ না করতে পারা এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই চিঠি পাঠিয়ে দেওয়ায় অনেক ভোটই বাতিল হয়েছে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও সাংবাদিকদের বলেন, আইনি বিষয়ে তিনি কোনো আগাম মন্তব্য করতে চান না। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে বিচার বিভাগ সিদ্ধান্ত দেবে।’ ‘তবে আমরা এমন একটা পরিবেশে নির্বাচন চাই, যেখানে ভোটাররা আস্থা পাবে,’ বলেন পম্পেও। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন কমিশনের চেয়ারওম্যান এলেন ওয়েইনট্রব বলেন, ট্রাম্পের নির্বাচনের সময়সূচি বদলানোর ক্ষমতা নেই। তারিখ বদলানো উচিতও নয়। বরং আমেরিকানরা প্রত্যাশা অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ বাড়িয়ে ভোটারদের আরো নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পক্ষে মত দেন তিনি।

ট্রাম্পের দাবি নাকচ করে দিয়েছেন সিনেট মেজরিটি লিডার মিচ ম্যাককনেল এবং হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভ মাইনরিটি লিডার কেভিন ম্যাকার্থিসহ রিপাবলিকান দলের বেশ কয়েকজন নেতা। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলে পরিচিত কেভিন ম্যাকার্থি বলেন, নির্বাচন পেছানো কোনো ভালো বুদ্ধি না। ট্রাম্পের বক্তব্যের সমালোচনা করেছে বিরোধী ডেমোক্র্যাট নেতারাও। দলটি থেকে নির্বাচিত নিউমেক্সিকোর সিনেটর টম উডাল বলেন, কোনো সুযোগ নেই প্রেসিডেন্টের, নির্বাচন পেছানোর।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.