দায়িত্ববোধ, ভদ্রতা, সহনশীলতা বনাম জীবন

সেলিম আহমেদ ঃঃ
নিজের জীবনের সব -সব ত্যাগ তিতিক্ষা যখন শুধু পরিবার পরিজন নিয়ে চিন্তা করেছি, আসলে এর কি খুব বেশি প্রয়োজন ছিল জীবনের কাছে? সহ্য করে নেবার কথা শিখিয়েছেন শ্রদ্ধেয় বড় বোন ড, দিলারা হাফিজ এবং তাঁর জীবন সঙ্গী প্রায়াত কবি রফিক আজাদ তাঁদের প্রতি আমার আমরণ শ্রদ্ধাবোধ থেকেই যাবে , অন্ধকার অজানাতে সঠিক জনকে চিনে নিতে পারাই তো সব থেকে জীবনের বড় খেলা, সে খেলায় হেরে গেছি, অবুঝ শিশুটিও অন্ধকারে তার মাতৃস্তন্য খুঁজে পায়। তাই আমিও মৃত্যুপথযাত্রী আমার জন্য ওপারে সব থেকে বড় খেলা লীলাময় রেখেছেন।
পরিপূর্ণতা যদি ভবিষ্যৎ দৈন্যের কথা স্মরণ করে দেয়, তবে সে পরিপূর্ণ হলো কিভাবে, আমার জীবনে আমি আমার মতো করে পূর্ণ করতে চেয়েও হয়তো ব্যার্থ হয়েছি আমার দৈন্যতার কারণে। সে ব্যার্থতায় আছে আমার চোখের জল, সে জলতো আমি নিরবে নিয়ে গেছি কাউকে বুঝতে না দিয়ে। এপ্রেম ভালোবাসা তারই সাজে, যে বিরহ বেদনা সইতে পারে, যে জীবন সংগ্রামে ভয় পায় না।
তোমার অসুস্থার জন্য কি করিনি আমি নিজের সুখ শান্তি বিষর্জন দিয়ে আমি সর্ব হৃদয় সব সময় তোমার সেবা করে এসেছি আমার মানবিক মূল্যবোধ থেকে কিন্ত সে মানবিকতার সেই স্নেহ মমতার মর্যাদা দেবার চেষ্টা পর্যন্ত করোনি, বিবহিত জীবনে এমন কিছু করিনি যাতে মহান আল্লাহর সামনে আমাকে লজ্জা পেতে হয়। জীবনের সব দুঃখ ভুলে থাকতে পারলেও একটি দুঃখ ভুলবার নয়, সে হচ্ছে জন্মদাত্রী জননীর ইচ্ছে মতো সেবা করে যেতে না পারা।
প্রথম জীবনের সব স্মৃতি ধুঁয়ে মুঁছে আমি চেয়েছিলাম, সুন্দর এক জোড়া প্রেমাসিক্ত বঁধু ,আমি শতবার মরতে রাজী ছিলাম শুধু ঘরের প্রেমে বেঁচে থাকার জন্য কিন্ত একের পর এক এক করে অনেক অসুখে আক্রান্ত হলে একবারও মনে করে দেখেছো পৃথিবীর শ্রেষ্ট সেবিকাও এমন স্বযত্নে আদর দিয়ে সেবা দিতে অক্ষম হবে। আমি চেয়েছিলাম বঁধুর প্রেম কিন্ত ঘরের অবহেলা আনাদরে সে আকাঙ্খা ফিকে হয়ে শেষ পর্যায়ে শেষ হয়ে গেছে তবু এইটুকু সান্ত্বনা যখন বাড়ী ফিরতাম তখন সব থেকে আদরের ধণ ছিলাম মায়ের কাছে, জানালার পাশে চাঁদ হয়ে অপলক দৃষ্টিতে নিন্দ্রিত আমি বিনিদ্র রজনী শিয়রে বসে পার করতেন মা।
আমার জীবনের এতো চোখের জল তুমি চোখে পুরে নিতে পারবেনা তবে এই জলের কথা স্মরণ করে যে দিন তোমার চোখে জল টলমল করবে সেদিন বুঝবে এর চরম মূল্য, মানুষের জীবনে যখন সব সান্ত্বনার পথ বন্ধ হয়ে যায় তখন তার হৃদয় এক মহা আনন্দলোকের সন্ধান পায় , আমি না হয় সে শুভ্র আনন্দলোকের যাত্রী হলাম,আমি এও জানি যাত্রী হলেও কেউ ক্ষমা করবেনা কিন্ত ক্ষমা করার মালিক যিনি তাঁর কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করেই যাত্রা শুরু করবো, তিনি যেনো ক্ষমা করেই তাঁর কাছে নিয়ে নেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.

শিরোনাম