পদ্ধ্যার তীর রক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় চরম আতংকে পদ্ধা পারের মানুষ

 

 

হরিরামপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি ঃ

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় পদ্মার ভাঙনে বিলীন হয়েছে কয়েকশ’ বাড়িঘর, কৃষি জমি, বাজার, স্কুল ও মসজিদ। প্রতিবছর বর্ষার শুরুতে পদ্মার পানি বৃদ্ধির সময় ও বর্ষার শেষে দেখা দেয় তীব্র ভাঙন। এ বছরও ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের পর পদ্মায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার ধুলশুড়া ইউনিয়নের ইসলামপুর, আবিধারা, কমলাপুর, নীলগ্রাম, রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর, আলগীরচর, ভাওয়ারডাঙ্গী, বয়ড়া ইউনিয়নের ড়িকা›ি এবং গোপীনাথপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর ও ডেগীরচর গ্রামে ভাঙনে বসতভিটা ও কৃষি জমি হারিয়েছে কয়েকশ’ পরিবার। ধসে গেছে পদ্মা নদী তীর সংরক্ষণ বাঁধের অধিকাংশ। পদ্মার পানি এখন কমতে থাকায় ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে কয়েকশ’ পরিবার। ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে ১৩নং গোপীনাথপুর ভাটিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধুলশুড়া ইউনিয়নের কমলাপুর মাদ্রাসা মসজিদ ও মন্দির। গোপীনাথপুর ভাটিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাখাওয়াত হোসেন সংবাদকে বলেন, জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যালয় রক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণসহ ভাঙনরোধে স্থায়ী একটা ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানাই। ‘পদ্মা ভাঙন থামাও, হরিরামপুর বাঁচাও’ নামক ফেসবুক গ্রুপের অন্যতম সমন্বয়ক মুন্সী সোহাগ সংবাদকে জানান, ভাঙনরোধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণে এবং অবৈধ ড্রেজিং বন্ধের াবিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলা প্রশাসক, পানিসম্প মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ভাঙন পরিদর্শন করেছেন মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক এসএম ফেরদৌস, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক মো. মাঈনদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিন, সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. বিল্লাল হোসেন প্রমুখ। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক মো. মাঈন উদ্দিন বলেন, হরিরামপুরে ধূলশুড়া ইউনিয়নে বাঁধ নির্মাণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডে দেড় কোটি টাকার আবেদন করা হয়েছে। শীঘ্রই বাঁধ নির্মাণে কাজ শুরু করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন। জেলা প্রশাসক এসএম ফেরদৌস ভাঙন ও জিও ব্যাগ ফেলার কাজ পরিদর্শনকালে জানান, ধুলশুড়া ইউনিয়নে ইতিমধ্যে ১৮৯০০ বস্তা বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলছে। নদী ভাঙন থেকে জেলাকে রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.