চট্রগ্রামের হাটহাজারীতে স্ত্রীর হাতে স্বামী খুন

হাটহাজারী (চট্রগ্রাম ) প্রতিনিধি ঃঃ

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে এম. সেলিম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রী কুলছুমা সিদ্দিকা প্রিয়ার বিরুদ্ধে। রোববার সকাল ১১টার দিকে নিহতের পরিবার লাশ দাফনের প্রস্তুতি নিলে এলাকবাসী বাধা দেয়। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে প্রশাসনকে জানায়। অন্যদিকে স্ত্রীও তাকে মারধর করা হচ্ছে বলে জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়ে অভিযুক্ত স্ত্রীকে আটক করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, প্রবাস জীবনের দীর্ঘ সময় কাটিয়ে গেল দু’বছর আগে দেশে ফিরেন সেলিম। দীর্ঘদিন ধরেই তাদের পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য চলছিল। অভিযোগ রয়েছে-স্বামীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনেরও। এ সব বিষয়ে বেশ কয়েকবার পারিবারিক ও সামাজিক বৈঠক করেও কোনো সুরাহা মিলেনি।

পরে করোনা পরিস্থিতির কিছুদিন আগে আদালতের মাধ্যমে স্ত্রী প্রিয়াকে ডিভোর্স দেন বিলেত ফেরত সেলিম। ডিভোর্সের সাত মাস পেরিয়ে গেলেও শ্বশুর বাড়ি না ছেড়ে বরং স্বামীকেই উঠোনের একটি ছোট্ট কুটিরে সরিয়ে দখল নেয় মূল বাড়ির। নিহতের ছোট বোন পারভীন আক্তার বলেন, ‘শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে আমার ভাই আমাকে ফোন দিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানায়, আমাকে মেরে ফেলছে পারলে আমাকে বাঁচা বোন। আমাকে খুব মারছে। আমি বাড়ির পাশে ইব্রাহীম মার্কেটের সামনে। কথাগুলো বলার সময় ভাবীর (প্রিয়ার) আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল। ফোন কেটেই আমরা বাড়ির উদ্দেশে রওনা করি। পরে রাত সোয়া একটার দিকে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আমার ভাইকে দেখতে পাই। ততক্ষণে আমার ভাই আমাদের কাছ থেকে হারিয়ে গেছে।
নিহতের বড় বোন, ভাগিনা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা স্ত্রীর পরকীয়ার কারণে সেলিমের প্রাণ গেছে দাবি করে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চান।
হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুল আলম মানবজমিনকে বলেন, নাঙ্গলমোড়ায় স্বামীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করে। ঘটনাটি নিয়ে আমরা তদন্ত করছি। এ নিয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

আপনার মতামত দিন

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.