ধামরাইয়ে যৌতুকের বলি আশুলিয়ার জুলেখা

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি ঃঃ

ঢাকার ধামরাইয়ের যাদবপুর ইউনিয়নের যাদবপুর উত্তরপাড়া গ্রামের আতাউর রহমান আতা মাস্টারের ছেলে বিএসসি মেহেদী হাসান তার স্ত্রীকে হত্যা করে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা বলে প্রচার চালায়। এ সময় লাশের গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখে স্থানীয় ও পুলিশের সন্দেহ হলে স্বামীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় নিহত গৃহবধূর বাবা জসীম উদ্দিন বাদী হয়ে গতকাল দুপুরে ধামরাই থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
জানা গেছে, ধামরাইয়ের যাদবপুর উত্তরপাড়া গ্রামের বিএসসি মেহেদী হাসান প্রায় দেড় বছর আগে বিয়ে করেন সাভার আশুলিয়া থানার গোলালবাড়ী গ্রামের জসীম উদ্দিনের মেয়ে জুলেখা আক্তার শিখা (১৯) কে। বিয়ের পর থেকেই স্বামী মেহেদী হাসান ও তার মা যৌতুকের টাকার জন্য মাঝে মধ্যেই চাপ সৃষ্টি ও নির্যাতন করতো স্ত্রীকে। গত বুধবারও যৌতুকের টাকার জন্য মারধর করা হয় গৃহবধূ শিখাকে। গত বৃহস্পতিবার রাতে মেহেদী হাসান স্ত্রী শিখাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে চিৎকার করতে থাকে আমার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন। এ সময় স্থানী এলাকাবাসী ঘরে গিয়ে দেখেন গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় আলমারির এক পাশে ঢেলান দিয়ে বসে আছে।

স্থানীয়দের ও পুলিশের সন্দেহ হলে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয় স্বামী মেহেদী হাসানকে। এ ঘটনায় গৃহবধূর বাবা জসীম উদ্দিন বাদী হয়ে ধামরাই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। স্থানীয়রা জানান, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুর-শাশুড়ি ও স্বামী মিলে নিহত গৃহবধূর ওপর নির্যাতন করতো পরিবারটি। যদি সত্যিই হত্যা করে থাকে তাহলে তাদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন গ্রামবাসী। ধামরাই থানার এসআই আজাহারুল ইসলাম জানান, নিহত গৃহবধূর গলায় আঘাতে চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং এ ঘটনায় স্বামী মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর মূল কারণ জানা যাবে বলে জানান তিনি। এদিকে, গত বৃহস্পতিবার সকালে ধামরাইয়ের নান্নার ইউনিয়নের গোপালপুর সিলেটপাড়া গ্রামের স্বামী-স্ত্রীর এক ঘর থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ধামরাই থানা পুলিশ। এখানেও স্ত্রীর গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.