সিংগাইরে বলধারার বড় কালিয়াকৈরের ১০ গ্রামের ২০ হাজার লোকের ভরসা বাঁশের সাঁকো : সেতুর আশ্বাসে ৪৯ বছর পার

মোঃ সাইফুল ইসলাম শিকদার ঃঃ

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে বলধারা ইউনিয়নের বড় কালিয়াকৈর গ্রামের পাশদিয়ে বয়ে গেছে এক সময়ের খর ¯্রােতা নুরানী নদী । এ নদীটির উৎপত্তি উৎস স্থল ধলেশ্বরী  হতে কালিগঙ্গা নদীর  সঙ্গে সংয়োগ হয়েছে। কালক্রমে এ নদীটি দখল দুষণে খালে পরিণত হয়। পরবর্তীতে ঐ নদীটিই লোকশ্রুতিততে নুরানী খাল বলে পরিচিতি পায়।বর্ষা আসতে না আসতেই কুইচারঘাট এলাকায় অথৈই পানি হওযায় বাঁশের সেতু কিংবা খেয়াই এ এলাকার মানুষের ভরসা ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বলধারা ইউনিয়নের বৃহৎকালিয়াকৈর গ্রামের কুইচারঘাটে সেতুর অভাবে দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বিশাল জনগোষ্ঠীর একটি অংশ। স্থানীয়রা জনপ্রতিনিধিদের নিকট সেতু নির্মাণের বারবার দাবি জানালেও আশ্বাসেই  পার হয়ে গেছে চার যুগ। তাই এলাকাবাসী নিজস্ব অর্থায়নে অর্ধনির্মিত  একটি বাঁশের সেতু নির্মাণ করেন । এ জনগুরুত্বপূর্ণ ঘাট দিয়ে ছোট কালিয়াকৈর, বড়কালিয়াকৈর, গোলাই .নবগ্রাম, আরমারা,  শিবপুর ,আটকুরিয়া, এগারাশ্রী, গাড়াদিয়া ,বাংগালা দশ গ্রামের১৫/২০হাজার লোক যাতায়াত করে থাকে।

কুইচার ঘাট খাল পারাপরের জন্য বাড়ি বাড়ি থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা অর্থ সংগ্রহ করে ছয়টি সিম্লেট  পিলার তৈরি করে। অর্থসংকটের কারণে স্থানীয়দের পক্ষে পূর্ণাঙ্গ ঢালাই  ব্রীজ নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি।।যার দরুন ঐ পিলারের উপর বাঁশের মাচাল বসিয়ে সেতু তৈরি করে খাল পারাপারের কিছুটা দূর্ভোগ লাঘবের চেষ্টা চলছে । সেতুটির পূর্ব ও পশ্চিম পাশের পিলারের উপর কোন রকম বাঁশের মাচাল বসানো হয়েছে। সিম্লেটের  পিলারের উপর মাচাল গুলো তেমন শক্ত করে বসানো হয়নি। বাঁশের সেতুর মাঝখানে নিচু হয়ে গেছে। একটু ভরেই সেতুর মাচাল দোলতে থাকে ।এ ঝুঁকিপূর্ণ  বাঁশের সেতু দিয়ে  পারাপারের সময় পা ফসকে পড়ে গিয়ে আহত হওয়া ঘটনাও ঘটেছে অহরহ শিক্ষার্থী ,কামার, কুুমার জেলে, নরসুন্দর,তাতীঁ কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানূষের যাতায়াত। কৃষকের উৎপাদিত ফসল বাজারজাতকরণ, ব্যবসায়ীদের পণ্যপরিবহন, মুর্মূষু রোগীর চিকিৎসা সেবা চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে। এ ঝুঁকিপূর্ণ সেতুতে পারাপারে  স্কুলগামী শিশুদের অভিভাবকরা থাকেন আতংকে উৎকন্ঠে। অনেক ক্ষেত্রে  পা ফসকে বই খাতা  পড়ে যায় খালে, আবার অনেকে শিশু আহত হওয়ার ভয়ে লেখাপড়া বন্ধ করেছে ।

স্কুল পড়ুয়া রেশমা বলেন, খেয়াপারাপারে সময়ক্ষেপণ  হয় , সময় মত ক্লাশ করতে  পারি না, এ ঘাটে দ্রুত সেতু নিমার্ণের দাবি জানচ্ছি।

উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ রুবাইত হোসেন জামান বলেন, কুইচার ঘাটে ব্রীজ এর জন্য কেউ আবেদন করে নাই,  কেউ জানায়নি আপনি বিষয়টি জানালেন।  খুব অচিরেই জনদুর্ভোগ হ্রাসে ব্রীজের ব্যবস্তা করা হবে। বর্তমান সরকার যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব  উন্নয়ন সাধন করেছে , যে কোন জনদূর্ভোগ লাগবে সরকার বদ্ধপরিকর।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.