চুরি গেল বৃত্তি ও টিউশনির টাকায় কেনা ৪টি

অনলাইন, সংবাদ জমিন ডেস্ক ঃঃ

দিনমজুরের দু’জন মেধাবী শিক্ষার্থীর উচ্চ শিক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বৃত্তি ও টিউশনির টাকায় কেনা শেষ সম্বল মূল্যবান ৪টি গরু চুরি হয়ে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে ওই শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকরা গরু উদ্ধারের ব্যাপারে প্রশাসনের কাছে দৌড়ঝাঁপ করলেও এখন পর্যন্ত গরুর সন্ধান না পাওয়ার কারণে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দিশাহারা হওয়ার পাশাপাশি ভেঙে পড়েছেন। পঞ্চগড় সদর উপজেলার কামাতকাজলদীঘি ইউনিয়নের ঘটবর গ্রামের দিনমজুর আনিসুর রহমান বলেন, ভবিষ্যৎ সম্পদ বলতে ছিল তার ৪টি গরু। যার আনুমানিক মূল্য হবে প্রায় ২ লাখ টাকা। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে গরুগুলো চোরেরা নিয়ে যায়। রাতে খাওয়া-দাওয়ার পর ঘুমিয়ে পড়ে পরিবারের সবাই। ভোরে নামাজ পড়তে উঠে আনিসুরের স্ত্রী আয়েশা বেগম দেখতে পান গরুর ঘরে কোনো গরু নেই।

এ সময় তিনি চিৎকার করতেই চারপাশের সবাই এসে জড়ো হয়। আশেপাশে অনেক স্থানে খোঁজ করলেও গরুর সন্ধান পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, আমার মেয়েরা বৃত্তি আর টিউশনির টাকা দিয়ে এই গরুগুলো কিনে দিয়েছিল। সেগুলো পালন করে এখন বড় করেছি। একটি বিদেশি গরুসহ মোট ৪টি গরুর বাজার মূল্য হবে প্রায় দুই লাখ টাকা। আশা ছিল গরুগুলো বিক্রি করে মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ ও বিয়ের খরচ জোগাড় করবো। কিন্তু আমার সব স্বপ্ন শেষ করে দিলো চোররা। মেয়েরা নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দিয়েছে। আমি পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছি। তারা সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। দিনমজুর আনিসুরের চার মেয়ে। চারজনই অত্যন্ত মেধাবী। বড় মেয়ে আফসানা খাতুন এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়ার পর ইংরেজি বিষয়ে অনার্স সম্পন্ন করেন। মাস্টার্স পড়া অবস্থায় সম্প্রতি তার বিয়ে হয়ে যায়। মেজ মেয়ে রোমানা আক্তার এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পায়। সে এখন রংপুর মেডিকেল কলেজে ডেন্টাল বিভাগে তৃতীয় বর্ষে পড়াশোনা করছে। সেজ মেয়ে লাবণী আক্তার এসএসসিতে জিপিএ-৫ ও এইচএসসিতে জিপিএ-৪ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। সে এখন রংপুর আইএইচটিতে রেডিওলোজি নিয়ে দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছে। এছাড়া ছোট মেয়ে রিপা আক্তার পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। বড় মেয়ে আফসানা ইসলামী ব্যাংক থেকে মাসে ৩ হাজার ও মেজ মেয়ে রোমানা ডাচ বাংলা ব্যাংক থেকে মাসে ২ হাজার টাকা করে শিক্ষাবৃত্তি পায়। সেই টাকার সঙ্গে টিউশনির টাকা ও বাড়ির কিছু টাকা যোগ করে কয়েক বছর আগে বাবাকে ৪টি গরু কিনে দেয় তারা। স্বপ্ন ছিল গরুগুলো বিক্রি করে মেয়েদের পড়াশোনা ও বিয়ের খরচ জোগাড় করবেন। কিন্তু চোর তাদের সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে মেয়েদের উচ্চশিক্ষা।
রংপুর মেডিকেল কলেজের ডেন্টাল বিভাগের ছাত্রী রোমানা আক্তার পঞ্চগড় প্রেস ক্লাবে এসে জানায়, গরুগুলো আমরা কিনেছিলাম যেন বিপদের সময় বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করতে পারি। এখন আমাদের আর কিছু রইলো না। সামনে আমার পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন করতে ১২ হাজার টাকা লাগবে। সেই টাকা কোথায় পাবো ভেবে পাচ্ছি না। করোনার মধ্যে এমনিতে টানাপড়েনে দিন যাচ্ছে। এখন সবকিছু অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কথা বলতে বলতে সে এক পর্যায়ে কেঁদে ফেলে। পঞ্চগড় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী বলেন, ওই পরিবারের ৪টি গরু চুরির ঘটনাটি আমি শুনেছি। চোর চক্রকে ধরার জন্য আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.