সিলেটে ভুয়া টিপসইয়ে ভাগিনার জমি রেজিস্ট্রি করে নিল মামার পরিবার

সিলেট প্রতিনিধি ঃঃ

মামার পরিবার থেকে জমি কিনে তাদেরকেই দেখভালের দায়িত্ব দিয়েছিলেন কানাইঘাট উপজেলার রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের মির্জারগড় গ্রামের হাজী আবদুর রহমান। মামার পরিবার কোনো নয়-ছয় করবেÑ এমনটা কল্পনায়ও ছিল না তার। কিন্তু নিশ্চিন্তে সৌদি আরবে প্রবাস জীবন পার করে দেশে এসে তার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে। আবদুর রহমানের অভিযোগÑ মামার পরিবার তার ভুয়া টিপসই ব্যবহার করে দেশের জমি সাফকবলা রেজিস্ট্রি করিয়ে নিয়েছে। যে সময়ে এই রেজিস্ট্রি করা হয়, সেই সময়ে তিনি ছিলেন সৌদি আরবে। এ বিষয়ে তার কাছে যাবতীয় প্রমাণাদি আছে এবং তিনি আদালতে মামলা করেছেন। কিন্তু মামলার বিবাদী মামাতো ভাই মখলিছুর রহমান তাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন। সিলেট জেলা প্রেস ক্লাবে গতকাল বেলা ২টায় সংবাদ সম্মেলন করে এমন অভিযোগ করেছেন কানাইঘাটের মির্জারগড় গ্রামের মৃত আবদুল হকের ছেলে আবদুর রহমান।

‘স্বজনদের অত্যাচারে নিরুপায়’ হয়ে তিনি সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে হাজী আবদুর রহমান বলেন, ‘আমি ৩৫ বছর প্রবাসে কাটিয়েছি। গরমের দেশ সৌদি আরবে কায়িক শ্রম দিয়ে যা উপার্জন করি, তা বৈধভাবে দেশ পাঠিয়েছি। আমার কায়িক শ্রমের টাকা দিয়ে যে সম্পদ অর্জন করেছি, সেই সম্পদক আমারই আপনজনেরা গ্রাস করার চেষ্টা করছে।’ তিনি বলেন, ‘আমি ১৯৮৫ সালে সৌদি আরবে যাই। সেখানকার উপার্জন থেকে ১৯৯১ সালে মামার পরিবার থেকে ৫৮ শতক জমি কিনি। এর দলিল নাম্বার ৬৭২০ ও ৬৭২১। কেনার পর বাংলাদেশের ভূমি আইনের নিয়ম-কানুন মেনে আমি জমির খাজনা প্রদান করে আসছি। আমি প্রবাসে থাকায় জমি দেখভালের দায়িত্ব দিই একই গ্রামে বসবাসকারী আমার মামার পরিবারকে। তারা বর্গাচাষ করে আসছিলেন। কিন্তু আমার কাছে বিক্রি করেও জমি থেকে লোলুপ দৃষ্টি সরাতে পারেননি আমারই মামার পরিবার।’ আবদুর রহমান বলেন, ‘আমি প্রবাসে থাকা অবস্থায় আমার টিপসই ও দস্তখত জালিয়াতি করে অন্য একজনকে আবদুর রহমান সাজিয়ে দু’টি সাফকবলা দলিল রেজিস্ট্রি করে নেয় মামার পরিবার। যেগুলোর নাম্বার ৩৩৬৬/৯৫ ও ৩৯০৫/৯৫। তারা বর্তমান জরিপে আমার জমির বিএস রেকর্ড আমার মামী মৃত নছিবুন নেছার নামে করিয়ে নিয়েছে। এ সবকিছুর নাটের গুরু আমার মামা মনু ওরফে বড়াইয়ের ছেলে তথা মামাতো ভাই মখলিছুর রহমান।’ যে দুই তারিখে জমির সাফকবলা রেজিস্ট্রি সম্পাদন করা হয়েছে, সে তারিখে আবদুর রহমান সৌদি আরবে অবস্থান করছিলেন এবং এ সংক্রান্ত প্রমাণাদি তার কাছে আছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ২০১৮ সালে দেশে ফিরে তিনি নিজের জমি চাষের উদ্যোগ নেন। কিন্তু এরপর থেকে মামাতো ভাই মখলিছুর রহমানসহ তাদের পুরো পরিবার আবদুর রহমানের সঙ্গে শত্রুতা শুরু করে, চাষাবাদে বাধা দেয়। জমি তাদের নামে রেজিস্ট্রি করিয়ে নেয়ার কথাও জানায় তারা। সংবাদ সম্মেলনে আবদুর রহমান বলেন, ‘সব শুনে আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। আমি গ্রামের মুরব্বিদের বিষয়টি অবহিত করি। তারা সালিশে বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে চাইলে মামার পরিবার সাড়া দেয়নি। পরে মুরব্বি ও বিজ্ঞজনদের পরামর্শে আমি মামার পরিবারের জাল দু’টি দলিল বাতিল করতে যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতে মামলা করি যা বিচারাধীন রয়েছে। কিন্তু মামলার পর থেকে ওই জমির দাবি না ছাড়লে মামাতো ভাই মখলিছুর রহমান আমাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন। বোনদের দিয়ে নারী নির্যাতন মামলা করাবেন বলেও হুমকি দিচ্ছেন।’ তিনি বলেন, ‘সারাজীবন প্রবাসে কষ্ট করেছি। স্বপ্ন ছিল দেশে এসে শেষ জীবনে একটু ভালোভাবে সময় কাটাবো। কিন্তু আমার জীবনই এখন বিপন্ন হতে চলেছে। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমার মতো আর কোনো প্রবাসী যাতে এ ধরনের হয়রানিতে না পড়েন, সেটা যেন নিশ্চিত হয়।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.