খাগড়াছড়িতে জমি নিয়ে বিরোধে মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি ঃঃ

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রইচ উদ্দিনসহ কয়েকজন সহযোগীর বিরুদ্ধে অপর মুক্তিযোদ্ধা ও খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসনের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী সাবেক নাজির মো: আব্দুর রহমানের ২একর সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয় দখল পাকাপোক্ত করতে মুক্তিযোদ্ধা মো: আব্দুর রহমানকে রাজাকারের মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তাকে ও তার পরিবারকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। সাংবাদিক সমম্মেলনে তিনি তাকে রাজাকার হিসেবে মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আগামী ৩০দিনের মধ্যে স্বপক্ষে প্রমাণপত্র দাখিলে ব্যর্থ হলে আইনের আশ্রয় নিবেন বলে জানান। দখল করে নিয়ে সেখানে ফ্ল্যাট বানিয়ে বিক্রি করছেন অভিযোগ উঠেছে।

আজ সোমবার সকালে খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধা ও খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসনের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী মো: আব্দুর রহমান এমন অভিযোগ করে বলেন, আদালতের রায়ে ৩০দিনের দখলদারদের জায়গা ছেড়ে দেওয়ার জন্য আদেশ দেওয়া হলেও তারা দখল ছাড়েনি। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি সরকারের কাছে তার ও পরিবারের জীবনের নিরাপত্তা দাবী করে বলেন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে জীবনবাজি করে যুদ্ধ করেছি। আমি একজন গেজেড ভূক্ত মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমার কাছে শেখ ফজলুল হক মনির স্বাক্ষরিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সনদ রয়েছে। দেশ স্বাধীনের পর সুনামের সাথে চাকুরি করে অবসরে গেছি। কিন্তু সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা রইছ উদ্দিনসহ কয়েকজন মিলে আমার জেলা শহরের শালবন এলাকার দুই একজন সম্পক্তি জোর পূর্বক দখল করে নিয়েছে।

আদালত আমার পক্ষে রায় দিলেও তারা দখল না ছেড়ে উল্টো সেখানে প্লট বানিয়ে বিক্রি করছে। আর দখল পাকাপোক্ত করতে আমাকে রাজাকার, ভূমিদস্যু আখ্যায়িত করে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন অপবাদ দিয়ে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা করছে। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করে বলেন, খাগড়াছড়ি জেলা সদরে ২৬২নং গোলাবাড়ী মৌজায় জনৈক অংগ্য মগের নিকট কাছ থেকে ২০০৭ সালে স্ত্রী রেজি: দলিল মূলে ২.০০(দুই) একর পাহাড় খরিদ করেন। পাহাড়ে বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছের বাগান সৃজন করে ভোগ দখলে থাকা অবস্থায় ২০১৫ সালে প্রাক্তন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রইছ উদ্দিনসহ কয়েকজন মিলে বেশ কিছু বাহিরের লোক সেই জায়গা জবর দখল করার চেষ্টা করা হলে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত ও যুগ্ম জেলা জজ আদালতে পৃথক পৃথক ভাবে মোট ২১(একুশ)টি উচ্ছেদ মামলা দায়ের করা হয়।

কিন্তু দখলদাররা এখনো দখল না ছেড়ে উল্টো মিথ্যা অপবাদের পাশাপাশি হুমকি দিচ্ছে। রাজাকার সাজিয়ে দুই একর জমি দখলের অভিযোগে খাগড়াছড়ি জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও সহযোগিদের বিরোদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে ৩০দিনের মধ্যে রাজাকার হিসেবে দালিলিক প্রমান দিতে ব্যর্থ হলে মামলা রুজু করবে। তিনি আরো অভিযোগ করেন, অবৈধ দখলদাররা মামলায় হেরে এখন তাকে প্রাণনাশের হুকমী দিচ্ছে। তিনি পরিবার ও জীবনের নিরাপত্তা দাবী করে সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার রইচ উদ্দিন, সদর উপজেলা কমান্ডার আব্দুর রহমান কতিপয় সহযোগীদের নিয়ে খাগড়াছড়ি জেলা শহরের শালবাগান এলাকায় ফলজ, বনজ বাগানসহ তার ২ একর জমি জবর দখলের চেষ্টা করেন। রাতারাতি মুক্তিযোদ্ধা পল্লী নাম দিয়ে বহিরাগত এবং নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে বিক্রি করে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেন। বাধ্য হয়ে তিনি আদালতে মামলা করেন। মামলা হেরে গিয়ে তার বিরুদ্ধে রাজাকারের অপবাদ দিয়ে মিথ্যাচার করে দলের এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। সংবাদ সম্মেলন থেকে ভিত্তিহীন,বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে আগামী ৩০কার্যদিবসের মধ্যে রাজাকার হিসেবে দালিলিক প্রমান উপস্থাপনের অনুরোধ জানান।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.